প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, বিশ্বের যেসব দেশ ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন করে, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন যে, ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং আরো অনেক দেশ তাদের পাশে রয়েছে। রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, ভারত থেকেও ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়। নেতানিয়াহু জানান, তিনি জেডি ভ্যান্সকে সম্মান করেন এবং তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি একমত নন। নেতানিয়াহু বলেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন, তখন আমরা সবচেয়ে বড় বন্ধু পেয়েছিলাম। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমাদের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু নেই।' এরপর তিনি ভারতে প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেছেন, 'ভারত একটি বিশাল দেশ। সেখানে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ বাস করেন। আমরা সেখান থেকে অসাধারণ সমর্থন পাই।' তিনি উল্লেখ করেন, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভারতীয়দের কাছ থেকে সমর্থনের অনেক বার্তা আসে। আরও বললেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিছু অংশে ইসরায়েলের সমালোচনা দেখা গেলেও, বাস্তবে বহু দেশ এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। নেতানিয়াহুর দাবি হলো, বিভিন্ন দেশের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে ইসরায়েলের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান। তিনি জানান, 'অনেকে আমাকে ফোন করে বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তারা সব সময় প্রকাশ্যে অবস্থান জানাতে পারেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তারা ইসরায়েলকে সম্মান করেন এবং আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী।' প্রযুক্তি খাতে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার দাবি হলো, সাইবার প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। উন্নত প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের কারণে অনেক দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই নেতানিয়াহু এসব কথাবার্তা বলেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান না নেওয়া। সেই সময় ভ্যান্সের এ মন্তব্য আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছিল এবং ইস্রায়েলের কিছু নেতা সেই আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স বলেছিলেন, যদি তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হতেন তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করতেন না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর এই বৈঠকটি হতে পারে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার পরে দুই নেতা শিগগিরই মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের ব্যস্ত সফরসূচির কারণে বৈঠকটি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইরান, লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের দিকে নজর রেখে দুই নেতা ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসার জন্য সম্মত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন