প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনায় জমি রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, যিনি অভিযোগ করেছেন চাঁদাবাজ, মাদকসেবী ও অবৈধ ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে সুভাষ চন্দ্র ঘোষ উল্লেখ করেন, তার পরিবার বরগুনার ঐতিহ্যবাহী ঘোষ পরিবার। তাদের পূর্বপুরুষরা দীর্ঘকাল ধরে বরগুনার বিভিন্ন ব্যবসা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ১২০ বছর ধরে তাদের পরিবার বরগুনায় বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে। তিনি দাবি করেন, পূর্বপুরুষদের সূত্রে পাওয়া জমিজমা নিয়ে সম্প্রতি একটি চক্রের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, তার পূর্বপুরুষের সূত্রে তিনি ও তার ছোট ভাই বরগুনা শহরের খাকদোন নদীর উত্তর পাড়ে বড় গৌরীচন্না মৌজার বিভিন্ন দাগের জমিতে ইটভাটার ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই ব্যবসা পরিচালনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারা সম্প্রতি ব্যবসা বন্ধ করেন। এরপর বরগুনা আবাসিক এলাকায় থাকা জমিতে হাউজিং ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিলে একটি চিহ্নিত চক্র তাদের জমির দিকে নজর দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের একটি দল তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে জমি দখল এবং নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সুভাষ চন্দ্র ঘোষের দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের উল্লিখিত জমিতে প্রবেশ করে। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জমির মাটি কেটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি সকালে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক তাকে জানান। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু এরপরও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা কিংবা বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুভাষ চন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেন, জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বিপ্লব বিশ্বাসসহ তার দলবল, কালাম ওরফে কালু, সোনাখালীর সেন্টু, ডলার, লিমন, আসাদ সবুজ, হারুন মাস্টার ও আব্বাস গং রয়েছেন। তারা বিভিন্ন সময় জমি দখল ও চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার পরিবারের জমি ও ব্যবসা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা কিংবা চাঁদা দাবি করতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তার অভিযোগের বিষয়টি তথ্য-অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি তার জমি রক্ষা, চাঁদাবাজি ও দখলচেষ্টা বন্ধ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, আমাদের বৈধ সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আদালত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। জোরপূর্বক জমি দখল, চাঁদা দাবি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন