প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। মার্কিন বাহিনী টানা অষ্টম রাতের মতো ইরোনে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
নতুনভাবে শুরু হওয়া এ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র স্মারকের শর্তগুলো সসম্মানে পালন করেনি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার কাছে এই পদক্ষেপের কোনো মূল্য নেই। গত ১৭ জুনের মধ্যে উভয় দেশের মধ্যে একটি স্মারক সই হয়েছিল।
স্মারকের শর্তগুলো উভয় পক্ষই আগে থেকেই পালন করছিল না। হামলা বন্ধ থাকার বিষয়টি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবে সম্পূর্ণ হয়নি। এছাড়া, স্মারকে উল্লেখ ছিল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের ব্যবস্থাপনায় জাহাজ চলাচল করবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করছে। তারা ইরানের নির্ধারিত পথের বাইরে জর্ডান উপকূলে জাহাজ চলাচল করতে বাধ্য করছে, যা এ সংঘাতের উদ্ভবের মূল কারণ।
এমন পরিস্থিতিতে, গতকাল বাহিনী জানিয়েছেন হরমুজের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্যমতে, চারটি জাহাজ হরমুজের ‘অবৈধ’ রুট ব্যবহার করছিল। ইরান তাদের সতর্কবার্তার ফলে দুটি জাহাজ পিছিয়ে যায়। অন্য দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়, তবে ওই দুটি জাহাজে এবিষয়ে হামলা হয়ে ছিল কি না, তা জানা যায়নি।
হরমুজ নিয়ে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে, ট্রাম্প নিউজনেশনকে বলেন যে, তারা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বিরত রাখতে চান। এর আগে ওয়াশিংটন এই লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে গত শনিবার ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পরিচালনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর্যায়ে ছিল। তারা হামলার বিষয়টি তদন্ত করছেন। অন্যদিকে, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী’ আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের চরিত্রই হচ্ছে আইনের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন করা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার রাতের হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামর্থ্য হ্রাস করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা করার জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে শাস্তি প্রদান। এ রাতে, শুধু পরমাণু কেন্দ্র নয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের কাছেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে। হামলা হয়েছে ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগান শহরের কাছেও।
এ হামলাগুলোর জবাবে তেহরান কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ করে হামলার দাবি করেছে। কুয়েত সরকার রবিবার জানায়, দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের পানি পরিশোধনাগারে হামলা হয়েছে। গতকাল জর্ডান থেকেও সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির বাহিনী জানিয়েছেন, তারা ইরানের ড্রোনকে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন