প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান আধুনিক যুগে রাজনীতি আর কেবল পলিসি, ইশতেহার বা বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিজ্যুয়াল পপ কালার, ট্রেন্ড এবং ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের ঘিরে একটি নতুন ট্রেন্ড বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যাকে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নাম দিয়েছেন ‘থার্স্ট ট্র্যাপ এরা’ (Thirst Trap Era)।
এই ট্রেন্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন মিশিগানের সেনেট পদপ্রার্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (Abdul El-Sayed)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে চলা আলোচনা এবং এসংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট মার্কিন রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনীতিতে ‘থার্স্ট ট্র্যাপ’ ও আব্দুল্লাহ আল সাঈদ আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের তরুণ ও গতিশীল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভোটারদের আকর্ষণ করতে একধরনের ‘সেক্স অ্যাপিল’ বা আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ও স্টাইলকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই তালিকায় জর্জিয়ার সেনেটর জন ওসফ (যাকে ইন্টারনেট ভক্তরা ভালোবেসে “সেনেটর মাই বয়” ডাকেন), নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের সেনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সামনের সারিতে রয়েছেন।
বিশেষ করে, আব্দুল্লাহ আল সাঈদ তার ফিটনেস, শারীরিক গঠন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ফিটিং টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লুকে উপস্থিত হয়ে তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছেন। ইন্টারনেট ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন পেজে (যেমন— thee culturebeat) তাকে নিয়ে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ও ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তার শারীরিক গঠন এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ কে?
শুধুমাত্র লুক বা বাহ্যিক আকর্ষণ নয়, আব্দুল্লাহ আল সাঈদর রয়েছে শক্তিশালী শিক্ষাগত ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড। তিনি একাধারে একজন চিকিৎসক, রোডস স্কলার (Rhodes Scholar) এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। তার চটজলদি ও সরাসরি কথা বলার ভঙ্গি সাধারণ রাজনীতিকদের গতানুগতিক ছক থেকে আলাদা। রাজনীতিতে তার এই বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আকর্ষণীয় শারীরিক উপস্থিতির মিশ্রণ তাকে সাধারণ ভোটারদের কাছে আলাদা করে তুলেছে।
সমালোচক ও মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাজনীতিতে এই ধরনের ইমেজ বিল্ডিং বা ‘থার্স্ট ট্র্যাপ’ কৌশল নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। ডেমোক্রেটিক সমর্থক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশের মতে, তরুণ ভোটারদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার জন্য এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর উপায়। এর মাধ্যমে রাজনীতি কম নিস্তেজ মনে হয় এবং প্রার্থীরা তরুণদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।
অন্যদিকে, সমালোচক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, সিরিয়াস রাজনৈতিক ইস্যু বা নীতিগত আলোচনার চেয়ে শারীরিক আকর্ষণ বা পপ-কালচারকে সামনে নিয়ে আসা রাজনীতিকে গুরুত্বহীন করে তোলে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ এবং অন্যান্য ডেমোক্রেটিক নেতাদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আলোচনা প্রমাণ করে যে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে কেবল পলিসি নয়, ডিজিটাল ইমেজ এবং ব্যক্তিত্বও একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে ভোটারদের মন জয় করার এই নতুন কৌশল মার্কিন রাজনীতিতে আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন