প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে শিক্ষকদের অভাব, শ্রেণীকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ যোগ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্যারিসের উপকণ্ঠে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি, যখন দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।
২৩ বছর বয়সি গ্রেটা প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনির লাইসি পল এলুয়ার স্কুলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন, যা তাকে কিশোর বয়সে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে।
গ্রেটা মন্তব্য করেন, ‘তরুণদের আলোচনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানে আমরা যেমন দেখেছি, স্কুলগুলো প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পাচ্ছে না।’
এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিকবার বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য আইনজীবীরা কালো গাউন পরে মানববন্ধন তৈরি করেন।
তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে আন্দোলন
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানী প্যারিসের পার্শ্ববর্তী ক্রেতেই একাডেমিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রেণীকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, ৩২ থেকে ৩৫ জনের বড় ক্লাস, দীর্ঘ সময়ের ক্লাস সূচি, জরাজীর্ণ শিক্ষা ভবন এবং উচ্চশিক্ষায় আবেদনের ওয়েবসাইট ‘পারকুরসুপ’ নিয়ে তৈরি চাপের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।
এছাড়া চলতি বছরে ইউরোপের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অনেক শ্রেণীকক্ষে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।
আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে এটি শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে গত ১ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের কিছু অংশে অগ্নিসংযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক ইউনিয়ন, কয়েকজন শিক্ষক এবং বামপন্থি বিরোধী রাজনীতিকেরা আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি ও ঋণ কমানোর চাপের মধ্যে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিলে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) বিক্ষোভে অংশ নেন আরও ৭৫ হাজার মানুষ। আজ মঙ্গলবার প্যারিসসহ দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে আবারও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন ইউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘তারা আমাদের কথা শুনছে না, তাই আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি।’
ইউনিয়নটির হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে আবারও স্কুলের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন