প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের গবেষকেরা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল চৌম্বক সেন্সর তৈরি করেছেন, যা ধূলিকণার চেয়েও ছোট। তাদের দাবি, নতুন এই সেন্সর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে থাকা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত ইস্পাতের সাবমেরিনের ক্ষীণ চৌম্বক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে গবেষকেরা এখনই এটি দূরপাল্লার সামরিক নজরদারির জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি হিসেবে মনে করছেন না।
এই ম্যাগনেটিক সেন্সর হেফেই ইনস্টিটিউটস অব ফিজিক্যাল সায়েন্স এবং নিংবো ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল গত ১৭ জুলাই একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ক্ষুদ্র আকার। গবেষকদ্বয়ের তৈরি 'অ্যানোমালাস হল ম্যাগনেটিক সেন্সর'-এর কার্যকর শনাক্তকরণ ক্ষেত্রফল মাত্র ২০×২০ মাইক্রোমিটার। এটি এত ছোট আকারের পাশাপাশি দুর্বল চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করার সক্ষমতাও উপলব্ধি করেছে।
হল-ইফেক্ট সেন্সর ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়, যেমন স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, গাড়ি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম। এতে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের পরিবর্তন অধ্যয়ন করা হচ্ছে। নতুন গবেষণা এই প্রযুক্তির সংবেদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবাঞ্ছিত সংকেত কমানোর দিকে মনোনিবেশ করেছে।
গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন যে, চৌম্বকীয় উপাদানের ‘স্পিন টেক্সচার’-এর গতিশীলতা নয়েজের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তাদের তৈরি করা হয়েছে দ্রুতগতির স্পিন টেক্সচারসম্পন্ন কৃত্রিম ফেরোম্যাগনেটিক কাঠামো। এছাড়া, সেন্সরের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চৌম্বকীয় স্তরের গঠন ও অ্যানিলিং বা তাপ-প্রক্রিয়াকরণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সাবমেরিন শনাক্তের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি 'ম্যাগনেটিক অ্যানোমালি ডিটেকশন' বা MAD-এর ধারণা ব্যবহার করে এসেছে। ইস্পাতের মতো চৌম্বকীয় পদার্থ ব্যবহৃত সাবমেরিন পৃথিবীর প্রাকৃতিক চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে চলার সময় স্থানীয় চৌম্বক ক্ষেত্রের কিছুটা পরিবর্তন ঘটায়, এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সেন্সর সেই পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।
তবে, গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে নতুন সেন্সর তাত্ত্বিকভাবে কাছাকাছি অবস্থানের সাবমেরিনের ক্ষীণ চৌম্বক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও দূরপাল্লার সামরিক নজরদারির জন্য এটি পর্যাপ্ত নয়। সে কারণে '৫০০ মিটার গভীরে সাবমেরিন শনাক্ত' বলার বিষয়টিকে পরীক্ষাগারে প্রদর্শিত বা তাত্ত্বিক সক্ষমতার রূপে দেখা উচিত, সরাসরি বাস্তব সমুদ্র অভিযানে প্রমাণিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে নয়।
চৌম্বক সেন্সরের প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় এটি আরও লাভজনক হতে পারে এর আকার, বিদ্যুৎ খরচ এবং পরিচালনার ব্যয় কম থাকার কারণে। প্রোটন ম্যাগনেটোমিটার তুলনামূলক বড় এবং অধিক বিদ্যুৎ নির্ভর। অন্যদিকে, অত্যন্ত সংবেদনশীল SQUID সেন্সরের কার্যক্রমের জন্য সাধারণত জটিল ও ব্যয়বহুল কুলিং ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।
সামরিক ব্যবহারের বাইরে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা রয়েছে চিকিৎসা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে। মানুষের হৃদ্যন্ত্র এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে অত্যন্ত দুর্বল চৌম্বক সংকেত তৈরি হয়। এগুলো শনাক্ত করা গেলে হৃদ্রোগের গবেষণা, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে নতুন প্রযুক্তির অভিনব সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস, উপকরণবিজ্ঞান এবং স্ক্যানিং প্রোব মাইক্রোস্কোপির মতো ক্ষেত্রেও কম নয়েজ এবং উচ্চ সংবেদনশীলতার এই সেন্সরটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, সাবমেরিন শনাক্তের সম্ভাবনা এই প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলেও এর বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত। ক্ষুদ্র আকারে উচ্চ সংবেদনশীলতা ও কম নয়েজ—এই সমন্বয়ই চীনের গবেষকদের উদ্ভাবনকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন