প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খসরু পারভেজ ভূঁইয়া নামের ওই ব্যক্তি একজন সৌদি প্রবাসী। ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে লোকজনকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করত তার চক্রটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে তাকে নেত্রকোনার জজ আদালতে সোপর্দ করার পর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (১৫ জুন) মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার থানেশ্বর এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক থেকে ঠিক তখনই তাকে গ্রেফতার করে মদন থানা পুলিশ।
এদিকে, খসরু গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়ার পর একের পর এক ভুক্তভোগী মদন থানায় ভিড় করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন হুমায়ুন কবির, সোবেল, জুয়েল, মোজাম্মেল ও শরিফুজ্জামান শুভ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার থানেশ্বর গ্রামের আনডর আলীর ছেলে অভিযুক্ত খসরু পারভেজ ভূঁইয়া। ১০-১২ বছর আগে তিনি পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি তার বড় ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতায় লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে জনশক্তি রফতানির কাজ শুরু করেন।
কর্মপ্রত্যাশীদের সৌদি আরবে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন খসরু। দেশ থেকে নিয়ে আসা লোকজনের পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে সৌদি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখাতেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই তাকে টাকা দিতে দিতেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করতেন বা প্রতিবাদ করতেন, খসরু তাদের জিম্মি করে দেশে তাদের পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করতেন।
খসরু পারভেজ ভূঁইয়ার এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন নেত্রকোনার মদন পৌর শহরের মদন বাজার এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহন মিয়া। গত বছর ২২ জানুয়ারি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করে সৌদি আরবে যান তিনি।
মোহন জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর খসরু তাকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গেছেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ দেয়া হয়নি। উল্টো মিয়ার কাছ থেকে পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত কাজ না পেয়ে মোহন চুক্তি অনুযায়ী আকামার কথা বললে খসরু তাকে জিম্মি করেন। একপর্যায়ে পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফেরেন মোহন।
ভুক্তভোগী মোহন মিয়া বলেন, ‘পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতার জন্য খসরুর ফাঁদে পড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলাম। কিন্তু এই প্রতারক আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে।’
এ ঘটনার পর মোহন মিয়া বাদী হয়ে গত ৯ জুন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (সিআর মামলা নং-০৫/২৬) দায়ের করেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩-এর ৩১/৩২/৩৩/৩৫/৩৬ ধারায় করা ওই মামলায় খসরুসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
খসরু পারভেজ ভূঁইয়া কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেছিলেন। ইটনা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রিয়াদ জানান, ‘খসরু এর আগে সৌদি আরবে অনেক লোক নিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অনেক রকমের অভিযোগ শুনেছি। এসব নিয়ে রবিনসহ কয়েকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সোমবার রাতে আমরা এলাকাবাসী একটি সালিশ বৈঠকে বসেছিলাম। এ সময় নেত্রকোনার মদন থানায় মামলা থাকায় পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দীন করিম জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩ অনুযায়ী খসরু পারভেজ ভূঁইয়া নামে একজন সৌদি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন