প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ অবস্থায় সীমান্তের শূন্যরেখায় গত তিনদিন ধরে অনেক মানুষ আটকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করছে এবং কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
আটকে থাকা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক—এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এছাড়া, রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয় বিএসএফের দ্বারা।
তারপরও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এসব সীমান্তে সামনের দিনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের দাবি তুলেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
এদিকে সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তাদের প্রকৃত পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা বরণীয় হবে না। সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি থমথমে হলেও উভয়দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা দুনীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু জানান, সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা এবং দ্রুত তাদের প্রকৃত পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন