জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় সফর করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। দীর্ঘ আট বছর পর ভোলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ফুল হাতে অপেক্ষা করেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পৌঁছান মন্ত্রী পার্থ। সেখানে জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সাবেক মেয়র শফিউর রহমান কিরন, হুমায়ুন কবির সোপানসহ বিএনপি ও বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।
পার্থের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোলা শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিভিন্ন মোড়ে ফুল হাতে অবস্থান নেন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন পর ভোলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার ফলে জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আন্দালিব রহমান পার্থের মন্ত্রিত্বের সময়ে জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে ভোলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানে তাঁর ভূমিকা রাখার আশা করছেন তাঁরা।
নতুন বাজারের জেলা বিজিপির কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পার্থ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর পরিবারের কেউ টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। ভোলার উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, "ভোলা বরিশাল সেতু নিয়ে ভোলার সকল মানুষ আন্দোলন করেছে। এটা ভোলাবাসীর প্রাণের দাবী।" ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করতে সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভোলা বরিশাল সেতু নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত করবেন না। "আমরা সরকারে আছি ভোলার উন্নয়নে ভোলাবাসীকে সাথে নিয়ে ভোলার যেভাবে সুবিধা হবে, দেশের যেভাবে সুবিধা হবে সেভাবেই কাজ করতে হবে।" সরকারের একটি নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ভোলার উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ভোলায় মেডিকেল কলেজ হবে, নদী ভাঙ্গন রোধে ৭ শ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে, রাস্তা ঘাট উন্নয়নেও কাজ হবে। বিগত সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসছে মাত্র কিছুদিন হলো। "একটা কঠিন সময়ে তিনি দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের জনগণের কল্যাণে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।"
এক্ষেত্রে একটু সময় দিতে হবে। সরকার যা করে তা দেশ ও জনগণের কল্যাণেই করে। তাঁর সঙ্গে সবাই থাকলে এবং আল্লাহ চাইলে ভোলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করবেন। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিরোধী দল, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। কাউকে বাদ না দিয়ে ভোলার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, "ভোলায় কোন কাটা কাটি মারা মারি, টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাসী হতে দেয়া যাবে না। আমি একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।" আপনারা আমার পাশে ছিলেন বিদায় আমি মাত্র ১২ দিন নির্বাচন করে এমপি হয়েছি। "আমি কথা দিলাম আমি কোন মন্ত্রী এমপি হিসেবে নয় আমি আপনাদের মন্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই।" টিআর, জিআর, কাবিখা আমার বংশের কেউ খায় না। আমার কোন ভাগ্নে ভাতিজা নাই। কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নাই। ভোলা হবে শান্ত ও উন্নয়নের জেলা। তাকে মন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চান পার্থ। একই সঙ্গে তাঁর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর নাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার জন্যও সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু ভোলার রাজনীতি ও ভোলার উন্নয়নে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে ভোলার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কারণে তিনি ‘ভোলার উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বাবার সেই রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ভূমিকার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পার্থও ভোলার মানুষের পাশে থাকবেন এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও বাসিন্দাদের অনেকে। পরে মন্ত্রী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থকে তার নিজ বাসভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে আন্দালিব রহমান পার্থ তচর গ্রামের বাড়ি দক্ষীন দিঘলদিতে তার বাবা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর করব জিয়াতের কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করার সময় আইআরজিসির পূর্ব-চিহ্নিত মাইন বেল্টে আঘাত হেনেছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উসকানিতে ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে নির্ধারিত আইনসম্মত নৌপথ পরিহার করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার একটি যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনা সংস্থাগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে আইআরজিসির পাবলিক রিলেশনস বিভাগ।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্যাঙ্কার দুটিকে মার্কিন এজেন্টরা আগেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল এবং বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে রহস্যজনকভাবে সেগুলোর ক্রু সদস্যদের সড়িয়ে ফেলা হয়। মার্কিন বলয়ে পরিচালিত জাহাজ দুটি পরবর্তীতে ইরানি নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ও সুনির্দিষ্ট সতর্কতা উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট মাইনবহুল প্রণালিতে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজ দুটিতে দাবানলের মতো আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরে নিজেদের তথাকথিত আধিপত্য জাহির করতেই আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাসমূহকে বিভ্রান্ত করছে এবং নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বলির পাঠা বানানোর চক্রান্তে মেতেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, আইআরজিসি বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট অনুমোদিত রুট উপেক্ষা করে মার্কিন অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অতি শিগগিরই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। কোনো কোম্পানি যেন তাদের জলযান শত্রুপক্ষের হাতে তুলে না দেয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর সমালোচনা করে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অতীতে বিয়ের অনুষ্ঠান বা বেসামরিক জমায়েতে হামলা চালিয়ে যেভাবে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, ঠিক একই কায়দায় তারা হরমুজ প্রণালিতেও ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ বাহিনী এই সস্তা কৌশলে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারকের অধীনে অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও, সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত বেআইনি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এবং ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা পর্যন্ত এই স্ট্র্যাটেজিক জলপথ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের পশ্চিমা আগ্রাসন বা বিভ্রান্তিকর প্রদর্শনী হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ঐতিহাসিক এবং পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না।
সূত্র: আল মায়াদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বিগ বস’-এর নতুন সিজনে সালমান খান কত কোটি টাকা নিচ্ছেন?
সালমান খানের ‘বিগ বস’-এর সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। বছরের পর বছর ধরে তিনি এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বিশেষত ‘উইকেন্ড কা বার’-এ সালমানের উপস্থিতি দর্শকদের কাছে শোয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, প্রতি মৌসুম শুরুর আগে তার পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এবারের মৌসুমেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
সালমান খানকে ‘বিগ বস ২০’-এর সঞ্চালনার জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন মৌসুমে সঞ্চালনার জন্য সালমান খান প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেতে পারেন।
সূত্রে জানা গেছে, এবারের মৌসুমটি প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে চলবে। সেই অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহান্তে সালমানের পারিশ্রমিক হতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি। তবে, এই পারিশ্রমিকের পরিমাণ সালমান খান কিংবা অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
আগের মৌসুমগুলোর মতো এবারও ‘উইকেন্ড কা বার’-এ সালমানের উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই শোয়ের মোট বাজেটের একটি বড় অংশ তার পারিশ্রমিকের জন্য ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আগের মৌসুমগুলোর তুলনায় ‘বিগ বস ২০’-এর বাজেট তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানটির মোট বাজেট কিংবা সালমানের চূড়ান্ত পারিশ্রমিক সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য যাচাইয়ের মানদণ্ড হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখার মানকে বিবেচনা করা হবে, এমনটি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে সাফল্য পরিমাপের জন্য নির্মিত ভবন ও বরাদ্দ ব্যয়ের উপর নির্ভর করা হতো। তবে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, তার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষক, ডিপিও, ডিডি এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকলের মূল্যায়ন এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে হবে, তিনি এ কথা জানান।
বুধবার বিকালে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। কর্মশালায় পিটিআইয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন মামলার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পদ শূন্য হয়ে আছে। প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব নিতে পারবেন না, বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। নবনিযুক্ত শিক্ষকরা দুই মাসের প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে যাবেন, এরপর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ চলবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের পিটিআই ও উপজেলা পর্যায়ের ইউপিটিসিগুলো নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কাজ চলছে। অতীতে মান কমে যাওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক থেকে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষার মান বাড়ানো গেলে অভিভাবকরা আবার সরকারি প্রাথমিকের দিকে ফিরবেন, তিনি মনে করেন।
ক্রীড়াকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ক্রীড়াবিষয়ক পাঠ্যবই ২০২৭ সালে এবং সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ ও প্রশিক্ষক ভাগাভাগির পাশাপাশি নতুন মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রান্নাকরা তাজা খাবার দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ে পৃথক পাইলট প্রকল্পও শুরু করা হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মতিয়ার রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মাসুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ