প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র গ্রিস ও পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের জাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যসংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছিল।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেন (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক) গ্রিসের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংকটিকে প্রশাসনিকভাবে নথিপত্র তলবের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তবে ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সংস্থাটি আরও ছয়টি ইউরোপীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যাংকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “আপনি সমুদ্রে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তর করুন কিংবা কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে বসে এসব কাজে সহায়তা করুন—ইরানি সরকারকে সমর্থন দিলে আমরা আপনাকে খুঁজে বের করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট অভিযোগ করেন যে, কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিস বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানি তৈরি করেছে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত পরিবহণকারী জাহাজগুলোর প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হতো।
পিগটের দাবি, এসব কোম্পানি মূলত আড়াল হিসেবে কাজ করত এবং এর মাধ্যমে ইরানের লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা হয়েছে। এসব বাণিজ্য থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স এবং ইয়েমেনের হুথিরা লাভবান হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
তবে কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এছাড়া, ইরানের তেল পরিবহণে সহায়তার অভিযোগে সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত এজেন্টের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের গোপন তেল পরিবহণ নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলতি মাসে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ইরানের জাহাজ চলাচল, তেল বাণিজ্য এবং এসব কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন