প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের ১০০টিরও বেশি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির আপিল শুনানি আগামী জানুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমন তথ্য জানিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইএফআর)-এর চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান।
কোগান বুধবার টাইমস রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, “প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে তারা চলতি মৌসুমের মধ্যেই বিষয়টির নিষ্পত্তি চায়। তবে বাস্তবে মামলাটি শুনবে একটি স্বাধীন কমিশন, যা তিনজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা আইনজীবী নিয়ে গঠিত।”
তিনি আরও জানান, “আমার জানা মতে, এ প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১২ সপ্তাহ। তাই অনেকের ধারণা, জানুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।”
কিন্তু কোগান সতর্ক করে বলেন, “এটি আমাদের প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের বিষয়। সবকিছু পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না।”
এর আগে, ম্যানচেস্টার সিটি বারবার দাবি করেছে যে তারা কোনো ধরনের অনিয়ম করেনি। বর্তমানে তারা প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। রোববার লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা ছয় ম্যাচে জয় পেয়েছে দলটি।
এখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা, যা দলটিকে অবনমনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জেতা তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার কোগান আরও বলেছিলেন, ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার সিটি নিয়ে আইএফআর-এর কোনো তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
স্বাধীন কমিশনের রায়ে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবটি আর্থিক বিধি ভঙ্গ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ‘ভুয়া’ চুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং ৯০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি (প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় কম দেখিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এ ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েন। রায়ের পর তিনি বলেছিলেন, ম্যানচেস্টার সিটির আবুধাবিভিত্তিক মালিকরা যদি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি “খুবই উদ্বিগ্ন” হবেন।
পরবর্তীতে ডাউনিং স্ট্রিট তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
২০১৭ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যাম পরে সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করেন।
কোগান বলেন, “এক বছর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা কারও কাছ থেকেই কোনো হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হইনি। ফুটবল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মালিক, পরিচালক বা অন্য যেকোনো বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে, আমি সেই ধরনের কোনো সংস্থা পরিচালনা করতে রাজি নই।”
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার এনজো মারেস্কা গত সপ্তাহে বলেছেন, তিনি ক্লাবটির ওপর “সম্পূর্ণ আস্থা” রাখেন এবং আপিলে সিটির বিজয় হবে বলেই বিশ্বাস করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন