প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। এই মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় উদ্ভাবনকে নীতি সহায়তা, কৌশলগত বিনিয়োগ, শিক্ষা খাত এবং মূলধারার বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ মেলা বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল উদ্ভাবনগুলোর সঙ্গে সরকারের নীতি সহায়তা, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, শিক্ষা খাত ও দেশীয়-আন্তর্জাতিক বাজারের শক্তিশালী মেলবন্ধন ও সংযোগ ঘটাতে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী ও সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের নিবিড় যোগাযোগ ও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
আয়োজক সূত্র জানায়, তিন দিনব্যাপী এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নবীন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই), উদ্ভাবনী সেবা প্রদানকারী, আইডিয়া ইনকিউবেটর, পরিবেশক ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বৈচিত্র্যময় খাতের ১ হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হবে।
মেলার দ্বিতীয় দিন (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে আয়োজন করা হবে বিশেষ সেশন। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক মানের সেশনে সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ সেশনে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ এই আয়োজনে এমন সব স্বাস্থ্য-উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে, যা প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বাস্তবমুখী ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল, বাজারসংযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা গবেষণাগারেই ভেস্তে যায়। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো এসব প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারে নিয়ে যাওয়া।
মেলায় ‘পলিসি মেশা’ নামে একটি নীতি-নির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে; যেখানে মন্ত্রী, সচিব, শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা উপস্থিত থেকে উদ্ভাবনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবেন।
এছাড়া সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের পথ সুগম করতে আয়োজন করা হবে ‘ইনভেস্টমেন্ট মেশা’। এতে স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতের সেরা উদ্ভাবন চিহ্নিত করে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করা হবে। পুরো প্রাঙ্গণে উদ্ভাবকদের কারিগরি সহযোগিতা দিতে ‘উদ্ভাবন হাব’ সক্রিয় থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই মেলা দেশের উদ্ভাবক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসবে, যা জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।”
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এ মেলার অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এবং মেধা স্বত্ব সম্পর্কিত সংস্থা কাজ করছে। কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। এ ছাড়া ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সেশনটি সরাসরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে পরিচালিত হবে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এ সেশনের বাস্তবায়ন সহযোগী এবং স্পেকট্রাম কমিউনিকেশন্স লিমিটেড সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন