প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার গুরুতর জখম হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণের শিকার হন সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে। তবে, গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছার সচেতন ছিলেন এবং কথাও বলছিলেন, এমনটি জানান ওই বিমানে উপস্থিত একমাত্র চিকিৎসক মুসায়েভ শোতা।
মাচ্ছার গুরুতর আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেন। এই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে, চিকিৎসক শোতা এবং অন্যান্য কয়েকজন দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করার পর, শোতা প্রথমে আহত পাইলটের চিকিৎসা শুরু করেন। শোতা বলেন, “আমি অপেক্ষা করিনি। বুঝতে পারলাম কিছু একটা ভুল হয়েছে এবং দৌড়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখলাম, মাচ্ছারের অবস্থা তখন খুবই খারাপ ছিল। তার মাথা ও হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।”
পরে, মাচ্ছারের রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এই চিকিৎসক। তার ভাষায়, “পাইলটের মাথা ও হাতের ক্ষত এত গভীর ছিল যে সেগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছিল।”
শোতা আরও বলেন, “অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মাচ্ছারের অবস্থা গুরুতর ছিল, তবে সংকটজনক পর্যায়ে ছিল না। বিমান অবতরণের কিছুক্ষণ আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়।”
আহত অবস্থায়, রক্তের মধ্যে বিমানের মেঝেতে পড়ে থাকলেও মাচ্ছার সচেতন ছিলেন। তিনি যাত্রীদের জানান, তার বয়স ৩৯ বছর এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। শোতার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি গালাগালও করেছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে শোতা জানান, আহত পাইলট পুরো সময় প্রার্থনা করছিলেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাকে হারানোর আশঙ্কা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করলে সৌদি চিকিৎসাকর্মীরা মাচ্ছারের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তাদের কাছ থেকে শোতা জানতে পারেন, পাইলট বেঁচে গেছেন এবং বিপদমুক্ত হয়েছেন।
এদিকে, রিয়াদে ভারতের দূতাবাস ও জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থার ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে। তিনি উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, মাচ্ছারের পরিবারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন