প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরে উত্তরা প্রাঃ হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ, সেবা সচল রাখতে অন্তর্বর্তী কমিটির উদ্যোগ।
শেরপুরের অন্যতম চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ‘উত্তরা হাসপাতাল’-এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের পর মাস বকেয়া বেতন না দিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৯-১০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত এবং ১০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্বলিত এই বেসরকারি হাসপাতালটি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বকেয়া পাওনা পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালটির মূল মালিক জুবায়ের রহমান বিপ্লব কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সংকটে পড়া উত্তরা হাসপাতালে ৮ লাখ টাকা দিয়ে ২.৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা নেন এম বি এম শফিকুল ইসলাম শান্ত। পরবর্তীতে চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অবহিত না করে ডজনখানেক ব্যক্তির কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন বিপ্লব। শুধু তাই নয়, মূল বিনিয়োগকারীদের বাদ দিয়ে বিপ্লব নিজ পরিবারকে নিয়ে একতরফাভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করে প্রতারণা চালিয়ে যান। বর্তমানে প্রাথমিক ১০ থেকে ১৫ জন বিনিয়োগকারীর প্রায় আড়াই কোটি টাকাসহ সার্বিক দেনা-পাওনা মিলিয়ে প্রায় ১০-১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও তছরুপের হিসাব পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জানান, গত এক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কর্মরত ডা. মবিনা ফেরদৌস জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ৪-৫ মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। এছাড়া আর্থিক অনিয়ম লুকানোর উদ্দেশ্যে হাসপাতালের ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ম্যানুয়ালি হিসাব রাখার কাজ চালানো হচ্ছিল।
এমতাবস্থায় সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবা এবং ১০০টিরও বেশি পরিবারের কর্মসংস্থান সচল রাখতে জেলা প্রশাসন, শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং হাসপাতাল মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতি স্পষ্ট করেছে যে হাসপাতালের কোনো মালামাল খোয়া যায়নি বা জোরজবরদস্তি করে দখল করা হয়নি। ফলে জুবায়ের রহমান বিপ্লবকে দ্রুত শেরপুরে ফিরে এসে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সকল দেনা-পাওনা এবং কর্মচারীদের বকেয়া মেটানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাময়িকভাবে দুজন চিকিৎসক এবং মালিক সমিতির সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা টিমের মাধ্যমে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন