প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের যুবক রাজন ইউক্রেনের যুদ্ধের বিভীষিকার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার সময় নির্মাণ শ্রমিকের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন রাজন।
রাজন ড্রোন হামলায় আহত হয়ে কোনোমতে দেশে ফিরে আসেন। যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাঁর মনে তাড়া করে। কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের এই যুবকের একটি পা অচল হয়ে গেছে এবং তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করছেন।
সুঠাম দেহের রাজন এখন অনেকটাই কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ, ড্রোন হামলা এবং মৃত্যুর আতঙ্ক তাঁর মনে ভেসে ওঠে। রাজন জানান, দালালের মাধ্যমে গত ৭ মে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও, তাঁকে জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরে তাঁকে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। রাজন বলেন, তাঁর সঙ্গে আরো ৩০ জন যুবককে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ২০ জন নিহত হন। একসময় একটি ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। চার দিন চার রাত বুকের ওপর ভর দিয়ে কোনোমতে ক্যাম্পে ফিরে আসেন তিনি।
রাজন পরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা পান। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফেরেন। গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘রাজন ভালো ছেলে। পরিবারের অভাবের কারণে বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এখন তাঁর এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
রাজনের পরিবার জানায়, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সহায়-সম্বল বিক্রি করেছিলেন তাঁর বাবা। বর্তমানে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। রাজনের চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাব রয়েছে। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনের চিকিৎসায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন