প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরে হাতিটিকে হত্যার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে, ভারতের আদালত শর্ত সাপেক্ষে ওই হাতিটিকে জামিন দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আপাতত হাতিটিকে শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হাতিটিকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। হাতিটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনো জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতিটির গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবেন।
বিষয়টি নিয়ে মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতি নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে যে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে হাতিটিকে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এরপর, হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং হাতিটি পূর্বের তুলনায় অধিক খিটখিটির হয়ে ওঠে।
গত মাসের ২৫ তারিখে, হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বের হয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ, হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ় বিজয়। আশপাশের লোকজন তাঁকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবার তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন