প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রাম। সম্প্রতি এখানে মো. ওয়ালি উল্লাহর বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি নতুন গ্রামীণ সড়ক নির্মিত হয়েছে। এর পাশে একটি ছোট পুকুর রয়েছে, যেখানে মাছের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং পাড়জুড়ে সবুজের সমারোহ বিরাজমান। শরতের শান্ত বিকেলে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। এই সময় ওয়ালি উল্লাহ পুকুরে মাছের খাবার দেন এবং একই সঙ্গে পাড়ের সবজির চারাগুলোর পরিচর্যাও করেন।
১৬ শতকে মাছের সমারোহ
কথোপকথনে জানা যায়, শখের বশে ওয়ালি উল্লাহ বাড়ির দক্ষিণের ১৬ শতাংশ জমি কেটে পুকুর তৈরি করেছেন। সেখানে তিনি কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা প্রজাতির প্রায় চার হাজার পোনা ছেড়েছেন। নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সম্পূরক খাবার প্রদান করেন। সযত্নে বেড়ে ওঠা মাছগুলো বর্তমানে প্রায় ৬ ইঞ্চি লম্বা হয়ে উঠেছে। মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং পুকুরের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঝে মাঝে কিছু মাছ ধরে নেন তিনি।
পুকুরপাড়ে বিষমুক্ত সবজির বাগান
মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড়ের খালি জায়গাকেও দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ওয়ালি উল্লাহ। পরিবারের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পুরো পাড়জুড়ে বিষমুক্ত সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন। পাড়সংলগ্ন প্রায় এক বিঘার মতো জমিতে তিনি লাউ, চিচিঙা, ঝিঙা সবজির বাগান তৈরি করেছেন। সেখানে বাঁশের মাচায় ডালপালা ছড়ানো লাউগাছ রয়েছে, ঝুলছে কচি কচি কয়েকটি লাউ। একটু দূরে লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে শিমের চারা। পাড়ের চারপাশে বেগুন, পুঁইশাক ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ধরনের শাকসবজি শোভা পাচ্ছে। মাঝে মাঝে তিনি পেঁপে, আম ও কলার চারাও রোপণ করেছেন।
পুষ্টির পূরণ ও অর্থনীতিতে স্বস্তি
ওয়ালি উল্লাহ জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এই সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ ও শাকসবজির চাষ করছেন এবং এতে সাফল্যও পাচ্ছেন। এর ফলে তার পরিবারের দৈনন্দিন আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা সহজেই মিটছে, পাশাপাশি বাজারের খরচও অনেকাংশে কমেছে।
নতুন সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের নজর আকর্ষণ করছে ওয়ালি উল্লাহর এই সমন্বিত খামার। তিনি প্রমাণ করেছেন, অল্প জমি কীভাবে সঠিক পরিকল্পনায় কাজে লাগানো যায়। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন স্থানীয়রা
শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন মন্তব্য করেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে এবং পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে ওয়ালি উল্লাহর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ছোট পরিসরে সমন্বিত চাষের এই মডেল এখন অনেকের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
কর্মকর্তাদের আশ্বাস ও সহায়তা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ওয়ালি উল্লাহর সমন্বিত চাষের উদ্যোগটি নিরাপদ খাদ্য ও সবজি উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করবে। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা এবং হাইব্রিড জাতের সবজি চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়া সরকারি কৃষক কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করে তার এই চাষাবাদকে আরও জোরদার করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ওয়ালি উল্লাহর ১৬ শতকের পুকুরে মাছ চাষের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে সঠিক ফলন পেতে পুকুরের জায়গা মেপে মাছের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সঠিক অনুপাতে পোনা মজুদের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন