প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ তার মুঠোফোন জব্দ করেছে। এছাড়া, তার কয়েকজন আত্মীয়সহ এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরির তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা তদন্ত সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরির জন্য প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসব তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। এনডিটিভি জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সোমবার, তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তারা। এই ঘটনা ঘটে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন ওমর।
তদন্তের পরিধি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথির সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধ খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রীয় সরকারি কৌঁসুলি জেনিন পিরো বলেন, ওমরকে ঘিরে ‘বেশ কয়েকটি তদন্ত চলছে’। তার দপ্তর ওমরের আর্থিক বিবরণীসংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছে।
পিরো বলেন, ‘যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার বিচার করা হবে।’ তবে ঠিক কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওমরকে নিশানা করছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওমর এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে নিশানা করে আসছেন। রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর এই প্রচেষ্টায় এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। আমি চুপ করে থাকব না।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুধবার ওমরের এক প্রতিনিধির কাছে ফোনে বার্তা রেখে যাওয়া হয়েছে।
ওমরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে রিপাবলিকানদের আগ্রহ বহু বছরের। তবে এবারের তল্লাশি চালানো হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ঐতিহাসিকভাবে কোনো প্রার্থীর প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। তিনি মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এ এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহরও রয়েছে।
ওমর কংগ্রেসের প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের গোষ্ঠী ‘দ্য স্কোয়াড’-এর সদস্য। কংগ্রেসের বামপন্থী অংশে এই গোষ্ঠীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই গোষ্ঠীটির সদস্যরা বারবার তার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
ওমর প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম দুই মুসলিম-আমেরিকান নারী সদস্যের একজন। তিনি আফ্রিকা থেকে আসা প্রথম শরণার্থী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন