প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকোর পশ্চিমে অবস্থিত আল-দুয়ুক আল-তাহতা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের আটটি বাড়ি দখল করেছে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। একই দিনে, রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে তিনটি গ্রামের প্রায় ৬২৭ একর জমি ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ হিসেবে ঘোষণা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আনাদোলু এজেন্সি। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াফা জানায়, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ইসরাইলি সেটেলাররা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আল-দুয়ুক গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ির মালিকরা সেখানে উপস্থিত না থাকায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাড়িগুলোর দখল নেয়।
এরপর জেরিকো শহর ও সেখানকার শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রবেশ করে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় তারা সামরিক যান নিয়ে বিভিন্ন সড়কে টহল দেয়। ওয়াফা জানায়, এলাকায় অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে আল-দুয়ুক আল-তাহতা গ্রামে বারবার ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে প্রবেশ ও সেগুলো দখলের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, একই দিন ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিসট্যান্স কমিশন জানায়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে তিনটি গ্রামের ২ হাজার ৫৩৬ দশমিক ৪৪ ডুনাম (প্রায় ৬২৭ একর) জমি বাজেয়াপ্ত করেছে। জমিগুলো ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানায়, মঙ্গলবার জারি করা এক ঘোষণার আওতায় বেইতিল্লু, আল-মাজরা আল-কিবলিয়া ও দেইর আম্মার গ্রামের এসব জমি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। এই এলাকাগুলো অবৈধ কেরেম রেইম ইসরাইলি বসতির নিকটবর্তী অবস্থিত।
কমিশন সতর্ক করে বলেছে, জমিগুলো রাষ্ট্রীয় ভূমি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ফলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সেখানে বসতি সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। এতে কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে এবং গ্রামগুলোর সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯৪টি অবৈধ বসতি ও ৪০০টি বসতি ফাঁড়িতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।
পাঁচ আবাসিক ভবন ধ্বংস
অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বৃহস্পতিবারও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় ফিলিস্তিনিদের ধড়পাকড়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়ি ও আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
ওয়াফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরজুড়ে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন বেথলেহেমের কাছে দেইশেহ শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া হেবরন, কালকিলিয়া, নাবলুস ও রামাল্লা থেকে অন্তত ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে বিদ্দু এলাকায় ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকা পাঁচটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ১০৫ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নাবলুসের কাছেও একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
সালফিত, নাবলুস, জেরিকো ও তুলকারেমে কৃষকদের ওপর ইসরাইলি বাহিনী ও সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিসট্যান্স কমিশন এদিন আটটি গভর্নরেটজুড়ে জলপাই সংগ্রহকারী কৃষক ও তাদের জমিতে ১৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কালকিলিয়ার কাছে অবস্থিত ওরানিত ইসরাইলি বসতিতে ৯১টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের দরপত্র প্রকাশ করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
এদিন তুবাসের দক্ষিণে রাস আল-আহমার বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অবরোধ ৪৪তম দিনে গড়ায়। অবরোধের কারণে ২৪টি পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে আরও ২৪টি পরিবার এখনো ওই এলাকায় অবস্থান করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন