প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জেলার সবুজায়ন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বালুর মাঠে জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বালুর মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। র্যালি শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আয়োজকরা জানান, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, মাটির ক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের সংকটসহ পরিবেশগত নানা ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বৃক্ষ মানুষের খাদ্য, কাঠ, ফল, ঔষধিসহ নানা প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৃক্ষরোপণ করলেই পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য পূরণ হবে না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গা, রাস্তার দুই পাশ, পতিত জমি, নদী ও খালপাড়সহ উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় স্বতন্ত্র। হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বসতবাড়ি, শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিকল্পিত সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা গেলে জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জেলা বৃক্ষমেলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রজাতির চারা সম্পর্কে জানতে এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী চারা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকরা মনে করেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়; এ কাজে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যা করলে সম্মিলিতভাবে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন