প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যারা একই প্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর চাকরি করবেন, তারা নিজেদের জেলার শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে একই পদে আবেদনের মাধ্যমে বদলি হতে পারবেন।
যদি নিজের জেলায় শূন্য পদ না থাকে, তাহলে শিক্ষকরা অন্য জেলায় আবেদন করতে পারবেন।
এই লক্ষ্যেই সরকার আগেই ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালাটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালার আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর অনলাইনের মাধ্যমে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে, বদলির আদেশ জারি করতে হবে এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
নতুন কার্যক্রম অনুযায়ী, প্রথম নিয়োগের পর দু’বছর চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবে। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার পর আবার আবেদন করতে হলে সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
বদলি নীতিমালার ভিত্তিতে, আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে, তারা নিজের বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ অবস্থায়, দেশের যে কোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কাজের অবস্থান সম্পর্কিত জেলার বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে, নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য-সংবলিত আবেদন বাতিল হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। পুরো কার্যক্রম নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে, বদলিকে অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলি হওয়া শিক্ষক টিএ-ডিএ ভাতা পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান, তারা বদলির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘যত শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন কেবল নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টেলিটকের সফটওয়্যার প্রস্তুত হলে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষকরা শুধু তিনটি ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন– নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলা।
এর আগে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একটি শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা আদেশে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি এস আলিয়া মাদ্রাসায় বদলি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন