ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাসপাতাল থেকে ফিরলেন মৃত্যুদণ্ডে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক


হাসপাতাল থেকে ফিরলেন মৃত্যুদণ্ডে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে কারাগারে ফিরে গেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) তার আইনজীবীরা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

৫০ বছর বয়সী পাইককে ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই সময় তাকে প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি বেঁচে যান।

আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় ২ শতাধিক প্রাণহানি

এক পর্যায়ে পাইককে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতে সক্ষম হন। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।

তবে, টেনেসি সংশোধন বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিরায় ওষুধ প্রবাহের নল সঠিকভাবে স্থাপন না করার কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমা হয়েছিল। পাইকের আইনজীবীরাও আদালতে দাখিল করা নথিতে নল স্থাপনে ত্রুটি থাকার অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরে নির্ধারিত অন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ স্থগিত করে ঘটনার পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সূত্র: ইয়াহু

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরাগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ পি.এম


তুরাগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের খুলনার ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩৭) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ তথ্য আজ ডিএমপির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ শনিবার বিকেলে তুরাগ থানার একটি টিম খালপাড় ব্রিজের নিকটবর্তী পাকা রাস্তা থেকে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে।

এতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে খুলনা জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দিঘলিয়া ও ফুলতলা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চুরি এবং অন্যান্য অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাঠালিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রড চুরির অভিযোগ শাহানাজের বিরুদ্ধে" জব্দের পরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো:রাজিব তালুকদার

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০২ এম


কাঠালিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রড চুরির অভিযোগ শাহানাজের বিরুদ্ধে" জব্দের পরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নং পশ্চিম চেচরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের রড চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া ৯৫০ কেজি রডের ৫০ কেজি কাঁঠালিয়া শিক্ষা অফিসার কিং ফয়সাল জব্দ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান খান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পদ চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, জব্দ করা রডের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে এর উৎস, মালিকানা এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুখে ফোনে ফোন দিয়ে তথ্য জানলে ফোনটা রিসিভ করেন না। এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার কিং ফয়সাল তিনি জানান আমি রড জব্দ করেছি তদন্ত প্রক্রিয়া দিন আমরা ব্যবস্থা নিব।

উল্লেখ্য এই চুরির বিষয় কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মকবুল হোসেনকে অবগত করিলে তিনি জানান বিষয়টি আমি প্রাথমিক শিক্ষা বিচারকে অবগত করেছি যারা এই চুরির সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম এর কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমি অবগত না তবে এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কাঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে অবগত করব। এ বিষয়ে কাঁঠালি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুজ্জামান জানান বিষয়টি কেলাস্টার কিং ফয়সাল তদন্ত করছে।তদন্তর একটি বিষয় আছে সরাসরি আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না তদন্ত ছাড়া। তবে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারানো মোবাইল উদ্ধারে প্রশংসিত এএসআই জামাল উদ্দিন, ডাকাত গ্রেপ্তারেও রেখেছেন ভূমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ এম


হারানো মোবাইল উদ্ধারে প্রশংসিত এএসআই জামাল উদ্দিন, ডাকাত গ্রেপ্তারেও রেখেছেন ভূমিকা

হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জামাল উদ্দিন। নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মোবাইল ফোন উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তিনি স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে ডাকাতি ও অপরাধ দমনে অভিযানেও ভূমিকা রেখে নজর কেড়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এএসআই জামাল উদ্দিন প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১৫টিরও বেশি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোনগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এ বিষয়ে এএসআই জামাল উদ্দিন বলেন, “জনগণের শখের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে সেটি উদ্ধার করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি। যত দ্রুত সম্ভব হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করি।”

মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধ দমনেও কাজ করছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। তার কর্মজীবনে হিরাজ, হারিজ, মুমিন, চুন্নু ও কানুসহ পরিচিত কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেপ্তারের অভিযানে ভূমিকা রাখার কথা জানা গেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন এএসআই জামাল উদ্দিন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১০ মাস ধরে নাসিরনগর থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।

পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে তার এই প্রচেষ্টা জনসেবার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এএসআই জামাল উদ্দিন ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামাতা বিএনপি নেতা জিয়ার ক্ষমতার দাপট: রূপাতলীতে এএসআই কিবরিয়া ও শ্বশুর ফিরোজের অশুভ আঁতাতে জমি দখলের মহোৎসব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৭ এম


জামাতা বিএনপি নেতা জিয়ার ক্ষমতার দাপট: রূপাতলীতে এএসআই কিবরিয়া ও শ্বশুর ফিরোজের অশুভ আঁতাতে জমি দখলের মহোৎসব!

দলীয় পদের বেপরোয়া প্রভাব, পুলিশ কর্মকর্তার অশুভ যোগসাজশ আর পারিবারিক ক্ষমতার দাপটে বরিশালে এক সাধারণ কর্মচারীর সারাজীবনের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার জঘন্য চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়ক এলাকায় ১০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক গিলে খেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মহানগর বিএনপির বিতর্কিত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ। আর এই তাণ্ডবের নেপথ্য শক্তি ও মূল আশ্রয়দাতা হিসেবে আঙুল উঠেছে তাঁরই জামাতা, বরিশাল মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের দিকে।

অভিযোগ রয়েছে, জামাতা জিয়াউদ্দিন সিকদারের উচ্চপদস্থ দলীয় পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল বানিয়ে সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ভূমিদস্যুতা ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নিঃস্ব করার অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।

বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবনের আকুতি ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী নাসির হাওলাদার। তিনি বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের একজন সাধারণ উমেদার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন:

"আমি ও আমার স্ত্রী কষ্টার্জিত টাকায় ২০১৫ সালে রূপাতলীতে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করি। কেনার পর থেকে জমিটি আমাদের পূর্ণ ভোগদখলে রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে নিয়ম অনুযায়ী নকশা অনুমোদন করাই এবং সরকারি খাজনাও নিয়মিত পরিশোধ করি। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও জমিতে সীমানা ও নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলেই বাধার মুখে পড়ি।"

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুল মিনতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন:

"আজকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার দলিলকৃত জমি জবরদখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন আমার দলেরই প্রভাবশালী নেতা—মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের শ্বশুর ও সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ এবং মেহেন্দিগঞ্জ থানার এএসআই গোলাম কিবরিয়া। জিয়াউদ্দিন সিকদারের এই লাগামহীন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে আজ আমি ও আমার পরিবার চরমভাবে নিঃস্ব হতে বসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে আমার সনির্বন্ধ আকুতি—আপনার দলের এই ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ভূমিদস্যু এবং তাঁদের দোসর এএসআই কিবরিয়া ও ফিরোজ আহমেদের হাত থেকে আমাদের মতো সাধারণ ও নিরুপায় পরিবারকে রক্ষা করুন। আমরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার চাই।"

এএসআই গোলাম কিবরিয়া ও ফিরোজ আহমেদের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ চক্রান্ত

সংবাদ সম্মেলনে ওঠা অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত চাল। মেহেন্দিগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়া হঠাৎ করেই ওই জমির ওপর নিজের দাবি তোলেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে থেকে সরাসরি জমি দখল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিনি বেছে নেন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদকে। এএসআই কিবরিয়া গোপনে সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দলিল লিখে দেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা কিসের ভিত্তিতে একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতার হাতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেবেন? স্পষ্টতই, জামাতা জিয়াউদ্দিন সিকদারের রাজনৈতিক শক্তি ও ক্যাডার বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে জমি হাতানোর উদ্দেশ্যেই এএসআই কিবরিয়া ও ফিরোজ আহমেদের মধ্যে এই অশুভ চুক্তি করা হয়েছে।

ক্যাডার বাহিনীর তাণ্ডব ও ৯৯৯-এর ব্যর্থতা

গত ৬ অক্টোবর সকালে এএসআই গোলাম কিবরিয়ার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নাসির হাওলাদারের কেনা জমিতে হামলা চালায়। সেখানে জোরপূর্বক গেট ও হোল্ডিং টাঙিয়ে দখলের মহড়া দেয় ফিরোজ আহমেদ ও কিবরিয়ার লোকজন।

ঘটনার সময় চরম আতঙ্কিত হয়ে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করলেও কোনো তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি। এর আগেও তাঁর জমি থেকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও মালামাল লুট করা হয়েছে। থানায় বারবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। পুলিশের অভ্যন্তরীণ লোক এএসআই গোলাম কিবরিয়া এবং মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা জিয়াউদ্দিন সিকদারের নাম জড়ানো থাকায় স্থানীয় থানা প্রশাসন একপ্রকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই নিরুপায় সরকারি কর্মচারী।

গিরগিটির মতো রাজনীতি, ভাইরাল গালাগালির ভিডিও ও বিএনপির ভাবমূর্তি সংকট

অভিযুক্ত ফিরোজ আহমেদের দেউলিয়া রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও নগরজুড়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালে দল বদলে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি তাঁকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছিল। তবে সংসদ নির্বাচনের আগে রহস্যজনকভাবে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মহলের দাবি, এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছেন তাঁর জামাতা বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার। জামাতার পদ-পদবি ও প্রভাবকে ঢাল বানিয়েই শ্বশুর ফিরোজ আহমেদ এলাকায় এমন বেপরোয়া ভূমিকায় নেমেছেন।

এদিকে ক্ষমতার দাপটে অন্ধ ফিরোজ আহমেদের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তাঁর মুখে চরম অকথ্য ও বিচ্ছিরি ভাষায় গালাগাল করতে দেখা ও শোনা গেছে, যা নিয়ে সমগ্র বরিশাল নগরজুড়ে চরম তোলপাড় ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একসময় বহিষ্কৃত হয়েও জামাতার ক্ষমতার জোরে দলে ফেরা এবং এই ধরনের কুৎসিত ভাষা ব্যবহারের ফলে বরিশালে বিএনপির মতো ঐতিহ্যবাহী বড় একটি দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দলের সুনামে বড় ধরনের দাগ পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন রাজনৈতিক মহল।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি অভিযুক্তরা

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার এএসআই গোলাম কিবরিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দায়সারাভাবে বলেন, "এখন একটি সালিশিতে ব্যস্ত আছি। পরে সরাসরি সাক্ষাতে কথা হবে।"

প্রেশনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

political পরিচয় ও পুলিশি পদবি ব্যবহার করে সাধারণ কর্মচারীকে নিঃস্ব করার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী নাসির হাওলাদার ও স্থানীয় সচেতন মহল অনতিবিলম্বে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমির সমস্ত নথিপত্র সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি, কোনো দলীয় পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জোর দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত এএসআই গোলাম কিবরিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ এবং নেপথ্যের কুশীলবদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%