প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনদের নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে যাতে একটি সংস্থা কাজ শেষ করার পর একই স্থানে অন্য সংস্থা নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা মহানগরীর চলমান এবং গৃহীতব্য মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজজনিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নগরবাসীকে স্বস্তি প্রদান করা, ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য নির্মাণকাজ একই সময়ে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসাসহ বিভিন্ন সংস্থার মেগা প্রকল্পের কাজ তদারকিতে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে কর্মকর্তা পর্যায়ে সাব-কমিটির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর ফলে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরছে এবং নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছেন। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ওপর যানবাহনের চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী এবং ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ এবং সার্বিক পরিকল্পনার কাজ চলছে। এ সময় পর্যন্ত শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূল সড়কে থ্রি-হুইলার বা ছোট যানবাহনের চলাচল শৃঙ্খলাবহির্ভূত। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নীতিমালার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আকস্মিকভাবে কাউকে পুরোপুরি বেকার না করে পর্যায়ক্রমে এসব যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হচ্ছে।
বিভিন্ন পিলারে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অসংখ্য অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ও আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবদের অংশগ্রহণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী শক্তির দুষ্কৃতকারীরা ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গুলশান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন