প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিউবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসীরা বিনা বাধায় তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। সোমবার এই অভিযোগটি উত্থাপন করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্রুতগতির একটি নৌযানে কিউবায় অনুপ্রবেশের ঘটনার তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তারা এই দাবি জানায়। ওই ঘটনায় সমুদ্রে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়, যার ফলে উভয় পক্ষের মানুষ নিহত ও আহত হন।
কিউবার সরকারি গণমাধ্যমের সোমবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কিজ এলাকা থেকে নৌকায় করে কিউবায় ঢোকার চেষ্টা করেন কিউবা থেকে নির্বাসিত ১০ ব্যক্তি। তাদের কাছে ছিল প্রায় ১৩ হাজার গুলি, ১১টি রাইফেল, ১৫টি পিস্তল, পেট্রলবোমা, একটি ভিএইচএফ রেডিও এবং স্টারলিংকের উপগ্রহ যোগাযোগের সরঞ্জাম।
কিউবার কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং বাকিদের আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার কিউবা জানায় যে, তদন্তে আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
কিউবার প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন এই কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে। তারা স্থল ও সমুদ্রপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে এবং অস্ত্র কেনা ও মজুদ করতেও সহায়তা করেছে। রবার্টস বলেন, "এসব অপরাধ এখনো চলছে।"
কিউবার কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডায় বসবাসরত কিউবার নাগরিক মারিৎসা লুগো ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে এই পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করার অভিযোগ এনেছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন স্বীকার করেছেন যে, তারা ফ্লোরিডার একটি খামারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। খামারটির মালিক লুগো ফার্নান্দেজ, যিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘পার্তিদো দেমোক্রাতিকো ৩০ দে নভিয়েম্ব্রে’ বা ‘৩০ নভেম্বরের গণতান্ত্রিক দল’-এর নেতৃত্ব দেন। তবে লুগো ফার্নান্দেজ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কিউবার সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, "৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই শাসকগোষ্ঠী আমাকে সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্ত করছে। তারা যা কিছু কল্পনা করতে পারে, সবকিছুর জন্যই আমাকে দায়ী করে।"
তিনি আরো বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমি মানসিকভাবে শান্তিতে আছি। তারা কী বলছে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি, পুরো বিষয়টিই মিথ্যা।" কিউবার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা দূতাবাস ও দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তবে কোনো পক্ষই জবাব দেয়নি। এর আগে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছিল, তারা এই ঘটনার তদন্তে একসঙ্গে কাজ করছে।
কিউবার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছিলেন যে, তারা দেশটির মাতানসাস প্রদেশে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে একই সময়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রদেশটি রাজধানী হাভানার ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা।
কিউবার এই অভিযোগটি সামনে এসেছে যখন দেশটির সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে। গত ৯ মাস ধরে দেশটিতে কার্যত জ্বালানি অবরোধ চলছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করা হয়েছে, যা কিউবায় নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবা সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতেও তারা কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন