প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো ৩১টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে দুটি করে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের সময় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পরিবারকে ছাগল তুলে দেওয়া হয়।
উপকারভোগী পরিবারগুলো সাতক্ষীরার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। ছাগল পালনের মাধ্যমে তাদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য এই উদ্যোগের।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম এবং ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা খাতুন, জিএম মুনজুর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জিএম মাসুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘকাল ধরেই বিভিন্ন সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগটি অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী। ছাগল পালনের মাধ্যমে তারা নিজেদের আয় করার সুযোগ পাবে।
মহসিন উল হাকিম মন্তব্য করেন, সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী মানুষের জীবনযুদ্ধ অত্যন্ত কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীরা শুধু স্বামীটাকেই হারাননি, তারা পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম সদস্যকেও হারিয়েছেন। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান বলেন, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই উদ্যোগ অপ্রয়োজনীয়। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে তাদের হাতে একটি সম্পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগী নারীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছাগল পালন থেকে বাড়তি আয় হলে তারা সন্তানদের লেখাপড়া এবং সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সাহায্য পাবে।
বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণের এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন