প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ কমেছে ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পরিবেশগত পরিবর্তন এবং দূষণও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে।
ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক শাখার উপপ্রধান মো. মোখলেছুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত মাছ আহরণের ফলে সামুদ্রিক মাছের মজুতের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও প্রথাগত নৌযানে সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ টন। পরবর্তী অর্থবছরে এই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৬১ টনে। অন্যদিকে, শিল্পভিত্তিক ট্রলারে আহরণ বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ টন থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫১ টনে পৌঁছেছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বর্মণ মন্তব্য করেন, শিল্পভিত্তিক ট্রলারগুলো নির্ধারিত গভীর সমুদ্রের পরিবর্তে অগভীর পানিতে মাছ ধরছে। এর ফলে ছোট নৌযান ও বড় ট্রলারের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে মাছ ধরার স্থান ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রজাতিভিত্তিক মাছের মজুতের সঠিক হিসাব না থাকার কারণে নিরাপদ আহরণের পরিমাণ নির্ধারণ এবং টুনার মতো গভীর সমুদ্রের মাছের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কে এম আজম চৌধুরী বলেন, মাছ আহরণ ও অবতরণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। দূষণ, অবৈধ মাছ আহরণ এবং পরিত্যক্ত জালে সামুদ্রিক প্রাণী আটকে পড়া মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনে সামুদ্রিক মাছের অবদানও কমছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে মোট মাছ উৎপাদনের ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ সমুদ্র থেকে আসত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ১২ শতাংশে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন