প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, কলামিস্ট, সংবাদ বিশ্লেষক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর ৭৪ বছর বয়সে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, পেশাগত দক্ষতা এবং সাংবাদিক সমাজের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন গিয়াস কামাল চৌধুরী। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
গিয়াস কামাল চৌধুরী দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) ঢাকা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সংবাদ পরিবেশনা ও বিশ্লেষণ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তাকে পরিচিত করে তোলে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সংবাদ তুলে ধরেও তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৩৯ সালের ২১ জুলাই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৬৪ সালে ইত্তেফাক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘ঢাকা টাইমস’-এর মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘মর্নিং নিউজ’-এ কাজ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় যোগ দেন এবং সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক ‘খবরপত্র’-এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
গিয়াস কামাল চৌধুরী শুধু একজন দক্ষ সংবাদকর্মীই ছিলেন না, সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিক সমাজের সংগঠিত কার্যক্রম, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তার ভূমিকা তাকে সাংবাদিকদের মধ্যে বিশেষ সম্মান এনে দেয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সংবাদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সম্পাদকীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে অবদান রাখেন। ভয়েস অব আমেরিকার ঢাকা সংবাদদাতা হিসেবে তার পরিচিতি দেশের রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে দৈনিক ‘খবরপত্র’-এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
১৯৩৯ সালের ২১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন গিয়াস কামাল চৌধুরী। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৬৪ সালে ইত্তেফাক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘ঢাকা টাইমস’-এর মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়।
সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯২ সালে তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। এ সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত নিষ্ঠা ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সংবাদ পরিবেশনা, সংবাদ বিশ্লেষণ এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য পেশাগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান।
আজ তার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই খ্যাতিমান সাংবাদিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। সাংবাদিকতায় তার অবদান ও পেশাগত নেতৃত্ব দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চায় তার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যতেও প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন