প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অন্যান্য দেশের বাজারের তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে বাংলাদেশকে ইউরিয়া সার দিতে চেয়ে রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দकर আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে রিপোর্টর্দলটির সৌজন্য সাক্ষাতকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন মন্থনে কথা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সহযোগিতার জন্য তিনি নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহের প্রশংসা করেন।
তিনি সত্যিকার অর্থেই বলেছেন, রাশিয়া বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদল জানায়, জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহে তারা আগ্রহী।
প্রতিনিধিদল আরও জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, যদি এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় তবে নির্ভরযোগ্য সার সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ও কমবে।
বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তালিকায় সূর্যমুখী তেল, হলুদ, মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল ও সবুজ মসুর ডাল সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন