প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের হিজলা উপজেলার সাতটি গ্রামের বাসিন্দারা, যারা মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন, তারা আবারও মানববন্ধন করেছেন। ৪ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের অরাকুল গ্রামে মেঘনা নদীর তীরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।
মানববন্ধনটির সভাপতিত্ব করেন হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিন বেপারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব দেওয়ান মনির হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বড়জালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল মতিন তালুকদার, সদস্যসচিব আমির বাঘা, বিএনপি নেতা এস এম ফারুক এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মহসিন সিকদার।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলম শরীফ, হুমায়ূন তালুকদার, জসিম সিকদার, আবদুল মাজেদ আকন, আলমগীর ফকির, নূর মোহাম্মদ সরদার, বিএনপি নেতা ফারুক ফরাজী, আলাউদ্দিন বাবুর্চি, ধলু মোল্লা, জসিম মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা সিকদার, আলতাফ হোসেন জমাদ্দার ও কামাল মাঝিসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অরাকুল গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দিন মাঝি মানববন্ধনে মন্তব্য করেন, "পিতামাতার পৈতৃক ভিটেমাটি আজ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। মেঘনায় বাড়িঘর হারিয়ে গেলে শেষ জীবনে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, তা জানি না।" তিনি ভাঙন রোধের জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং রাতের আঁধারে মাটি ও বালু কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি দেওয়ান মনির হোসেন বলেন, "মেঘনার করালগ্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম লড়াই করে যাচ্ছে। কিন্তু এই লড়াইয়ের শেষ নেই।" তিনি আরও বলেন, "এখনো নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, নদীতে বিলীন হওয়ার পর কোনো এলাকায় চর জেগে উঠলেও প্রকৃত জমির মালিকরা সেখানে যেতে পারেন না।" তিনি অভিযোগ করেন, "পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার প্রভাবশালীরা এসব চর দখল করে ভোগদখল করছে।"
দেওয়ান মনির হোসেন বলেন, "নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে এক জনসভায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এমন প্রতিশ্রুতি দেন।" স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থনা করেছেন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, "দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মেঘনা নদীর ভাঙনে আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন