প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে, এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ যে গণভোটে রায় দিয়েছেন, সেই একই দিনের ভোটের ভিত্তিতে আপনারা সরকার গঠন করেছেন।
তিনি জানান, যদি ওই গণভোট না থাকতো তাহলে এই সরকারকে মানা হবে না। গণভোট বাস্তবায়নে আপনাদের জনগণ বাধ্য করবে।
শনিবার, ১৮ জুলাই, দুপুরে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা যতই চেষ্টা করেন না কেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগে পরিণত হতে পারবেন না। তবে, অন্তত আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদে পরিণত হতে পারেন। এই দেশে আসল ফ্যাসিবাদকে মানুষ পাত্তা দেয়নি। তিনি আরও বলেন, যে অর্ডিন্যান্সগুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, তার সবগুলো বিএনপি রেখে দিয়েছে, এটিই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বিএনপি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কেয়ারটেকার সরকারের প্রকৃত সংজ্ঞা বুঝতে পারেনি। তারা শেষ পর্যন্ত তা বুঝলেও, বিলম্বিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বলেছেন, গণভোটে অধিকাংশ মানুষ হ্যাঁ রায় দিয়েছেন, তাহলে গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা উচিত। এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। নির্বাচনের সময় আমাদের মতো, তারাও গণভোটে হ্যাঁ বলার কথা বলেছে। কিন্তু এখন তারা সেই হ্যাঁ টের বেশী ভুলে গেছেন। এখন তারা সংস্কারের কথা কখনো বলেনি, কিন্তু আপনাদের ৩১ দফা দাবির মধ্যে প্রথম দফা ছিল সংস্কার। এখন তারা সেটাও বুঝছেন না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক মাঝে মাঝে আমাদের সংবিধান নিয়ে পাঠ দেন। وہ সংবিধানের বিভিন্ন ধারার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলছেন, এই বিষয়গুলো সংবিধানে আছে, কিন্তু সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। প্রতিবাদ করার পর তারা নাম পরিবর্তন করে বিশেষ কমিটি গড়েছেন। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনাপর্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে স্বৈরশাসককে পাকাপোক্ত করার জন্য, যা তারা দুই তৃতীয়াংশ ভোটে পাশ করবে, তবে এর ফল ফলদায়ক হবে না।
জামায়াতের আমির বলেছেন, ইতিহাসের ২৪-এর যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান করতে হবে। শহীদ ও গাজী উভয়ের ক্ষেত্রেই। জাতি ২৪-এর ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে, এবং এটির অবহেলা বরদাশত করা হবে না। এদিকে, আগামী ৫ তারিখে খুলে দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে। তিনি জানান, তিনি, নাহিদ ইসলাম এবং সংসদের ওই অবৈতনিক শিক্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে তবে ছাড় দেওয়া হবে না।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা হলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেক সুন্দর কথা বলেন, কিন্তু তার ভেতরে ছলনা রয়েছে। যদিও দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে, তারপরও সেই রায়টি বাস্তবায়িত হয়নি।
নাহিদ আরও বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না এবং তারা তা নিয়ে লড়াইও করেনি। তারা কেবল ক্ষমতার জন্য লড়াই করেছিল। বিএনপি ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার করা, কিন্তু তারা এই কাজটি করছে না। তবে বিএনপি একটি কাজ করেছে, তা হলো দেশে চাঁদাবাজি প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা সৃষ্টি হয়নি। বরং, চাঁদাবাজ ছাত্রদল ও যুবদলের জন্য কর্মসংস্থান হয়েছে। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সবাইকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে, কারণ এবারের লড়াই সংস্কার এবং বিচারের পক্ষে।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব) অলি আহমদ বলেন, বিরোধী দলে আমাদের কেউ শত্রু নয়, বরং আমরা দেশের মিত্র। আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি, এখন দেশের সংস্কার প্রয়োজন। দেশটাকে সংস্কার করতে হবে, যাতে দেশটি সুন্দরভাবে চলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন