প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি মন্তব্য করেন, "যদি একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।"
আজ সোমবার তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। সাইফুল হক আরও জানান, মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার পরও স্থানীয় বাধা ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে তার দাফন নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত পরিবারের পুরুষ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্য ও স্বজনদের নিজের হাতে কবর খুঁড়ে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়। পরে পুলিশি পাহারায় মধ্যরাতে দাফন সম্পন্ন হয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, "মৃত্যুর পরও একজন মানুষের দাফনের অধিকার বাধা ও ভয়ভীতির মুখে পড়া মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।" তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা, পরিবারের শোক এবং মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার এভাবে বিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সাইফুল হক বলেন, "কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যদি তার অনুসারী বা সহযোগী সংগঠনের ছত্রছায়ায় ভীতি ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি করে, তবে ভবিষ্যতে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।" তিনি আরও বলেন, "কোনো রাজনৈতিক শক্তিরই ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করার অধিকার নেই।"
বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ভয়ভীতি ও অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন