প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ১ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। তবে, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, স্পষ্ট বিধিবিধান এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনের (অস্ট্রেড) এক কর্মকর্তা।
অস্ট্রেডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার মারে স্পেন্স বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের দাম কমলে প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়ও কমে যাবে। এর ফলে প্রকল্পের আর্থিক সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে আগ্রহী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
স্পেন্স জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পসেবায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর। এই লক্ষ্যে, দেশটির পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিষয়ক আটটি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ খতিয়ে দেখছে।
তবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য শুল্কনীতির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্পেন্স। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা জানতে চান, বর্তমান শুল্কসুবিধা তাঁদের বিনিয়োগ ও সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনার পুরো সময়জুড়ে কার্যকর থাকবে কি না। এই বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও সরঞ্জাম আমদানি, সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।
স্পেন্স আরও বলেন, শুধুমাত্র আমদানি শুল্ক কমালেই দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রকল্পের অনুমোদন, বিদেশি মালিকানা, করব্যবস্থা, চুক্তির শর্ত এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার নিয়মও স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ এবং স্বচ্ছ হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সহজে সম্পন্ন করতে সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত হলে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অংশীদারদের সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ভাগ করে নিতে আরও আগ্রহী হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) শর্ত স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। স্পেন্সের মতে, বিদ্যুতের দাম, চুক্তির মেয়াদ, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি স্পষ্ট থাকলে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য আয় হিসাব করে প্রকল্পের আর্থিক লাভজনকতা নির্ধারণ করতে পারবেন।
জাতীয় গ্রিডে সংযোগ এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির নিয়ম স্পষ্ট ও ধারাবাহিক হলে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে চাহিদা বাড়ার সময় তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে, এর জন্য উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা ও কার্যকর বাণিজ্যিক শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ শুধুমাত্র সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স, উৎপাদন এবং কারিগরি সেবার ক্ষেত্রেও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা সমন্বয়ের দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে শুল্কনীতির ধারাবাহিকতা, সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির স্বচ্ছ বাণিজ্যিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি শিল্পের জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযুক্তি রপ্তানি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন