মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৬ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটা বর্তমানে আমাদের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি। আজকে একটা নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে।"
নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, "আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকার চেষ্টা করছে অতিদ্রুততার সঙ্গে দেশকে কী করে একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়।"
রাষ্ট্রপতি বলেন, "আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম— আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তারা অনেকটা আপনার ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।"
গণতন্ত্রের রক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।" তিনি মনে করেন, "আজকে যে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে, আমি মনে করি যে সরকারি দল, বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশনাল করা। তাকে যেন কাজ করে ঠিকমতো, সেইভাবে কাজ করার চেষ্টা করা।"
তিনি আরও বলেন, "অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে। সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।"
রাষ্ট্রপতি বলেন, "আমি মনে করি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করবার জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য একটা সত্যিকার অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাস যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি।" তিনি এই বিষয়গুলো সবসময় মনে রাখার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি। এই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বারবার বাধা পেয়েছে। আজকে সেই সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ আমরা কখনো অবহেলায় একে না হারাই। এ কথাটা সবসময় আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।"
সিলেটের বিভিন্ন সমস্যার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "সিলেটের কিছু সমস্যার কথা আপনারা বলেছেন। আমার মনে হয় আপনাদের মন্ত্রীবর্গ যারা আছেন, আপনাদের সদস্য যারা আছেন, তারা যথেষ্ট যোগ্য। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা কথা বলছেন, কাজ শুরু হয়েছে।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, "মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে শুনলেন যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ ইতিমধ্যে সামনে চলে এসেছে। ইনশাআল্লাহ এই কাজগুলো এগিয়ে যাবে এবং এর মধ্যে দিয়ে আপনাদের জনগণের যে অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে নিশ্চয়ই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই পরীক্ষা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা নিয়ে যদি কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিতভাবে জানাতে হবে।
সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ৮ ডিসেম্বর বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা দেখুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা মেজবা শরীফ দেশের বাইরে অবস্থান করলেও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পেশাগত কাজের পাশাপাশি নিয়মিত গানও গাইছেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি নতুন গান ‘তুই পাশে থাকলে বল’ প্রকাশ করেছেন। এই গানটির কথা ও সুর মেজবা শরীফ নিজেই রচনা করেছেন। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রেজওয়ান শেখ।
মেজবা শরীফ বলেন, “গান আমার কাছে শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি আমার ভালো লাগা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম। আইন পেশার কারণে ব্যস্ততা থাকে, অভিনয়ের কাজও করি। এর মধ্যে গান করার সময়টা আমার কাছে আলাদা এক ধরনের প্রশান্তি নিয়ে আসে।”
‘তুই পাশে থাকলে বল’ গানটি সম্পর্কে তিনি জানান, “এই গানটির কথা ও সুর আমার নিজের। গানটি করার সময় চেষ্টা করেছি খুব সহজভাবে ভালোবাসা ও মনের অনুভূতিগুলো তুলে ধরতে। দেশের বাইরে থাকলেও গানটির সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রোতাদের ভালোবাসা ও অনুভূতিকে যুক্ত রাখতে চেয়েছি। আশা করছি গানটি সবার ভালো লাগবে।”
এর আগে মেজবা শরীফের কণ্ঠে বেশ কিছু গান প্রকাশিত হয়েছে। গীতিকার কবীর বকুলের কথায় কণ্ঠশিল্পী কনার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন ‘নিশ্বাসে বিশ্বাসে’। ন্যান্সির সঙ্গে তার দ্বৈত গান ‘লাগছে দিলে চোট’ও শ্রোতাদের কাছে পরিচিত।
এছাড়া ফয়সাল রাব্বিকীনের কথায় ‘এই পৃথিবী’, অনুরূপ আইচের কথায় বৃষ্টির সঙ্গে ‘আমি তোমার মন’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মেজবা।
তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গানের তালিকায় রয়েছে ‘ঝরছে বৃষ্টি’, ‘ফটো’, ‘মনের স্মার্টফোন’, ‘প্রিয়া’, ‘ভালোবাসি’, ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘একটু শোন’, ‘চুপটি করে’, ‘লাভার বয়’, ‘কথা জমে থাক’, ‘দূর কোন দেশে’, ‘অনেক তো হলো’, ‘ইশারা’, ‘কার মায়াতে’, ‘প্রেম’, ‘কত সুখে আছি আমি’, ‘মিয়া হাবিবি’ ও ‘তুমি আমার জানের জান’। পাশাপাশি তিনি হিন্দি গান ‘মেরি রাজা’ও প্রকাশ করেছেন।
অভিনয় ও সংগীতের পাশাপাশি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো ডেল রিনকন শহরে একটি অপেশাদার ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছে। মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী হঠাৎ মাঠের টাচলাইনের কাছে চলে আসে এবং দর্শকদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।
এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায় দ্য সান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তার কারণে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও এই সিদ্ধান্তের আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল, তবে তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ অনুসন্ধানের জন্য। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি একাধিক ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেয়।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শান্ত বলেন, "বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ছিল ভালো এবং মানসিকভাবেও তারা প্রস্তুত ছিলেন।" দলের প্রত্যেকেই ভালো ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেস্তে যায়।
শান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি মূলত ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই নিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তৎকালীন বিসিবি সভাপতিও সরকারের মতামতকে সমর্থন করে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে তাদের কিছুটা অনীহা ছিল। লিটন বলেন, "ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন হলে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।"
লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও একতরফা। দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় ক্রিকেটারদের যেন কেবল দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছিল।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ক্রিকেটার ও কোচদের নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনা করেন রাজধানীর একটি হোটেলে। সেই আলোচনা থেকে দুয়েকজন ক্রিকেটারের কথা শোনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে আসিফ নজরুল সরাসরি নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। অনেক ক্রিকেটারই পরবর্তীতে জানিয়েছেন, আগের থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল জানাতেই আলোচনায় ডেকেছিলেন উপদেষ্টা।
গত ২২ জুলাই ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজও এই কথা বলেন, "আমি মনে করি, এটা রাজনৈতিক বিষয় ছিল। এর বাইরে আমার বলার মতো তেমন কিছু নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থাকে। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড়ও সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কী ঘটেছিল, সেটা সবাই জানে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ