প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুতিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি খোলা চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ যখন আবার যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসবে, তখন শুধু অপেক্ষা করা ভুল হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততা থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি প্রস্তাবিত আলোচনা চলাকালীন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানিয়েছেন, যেটি বৃহস্পতিবার পুতিন নাকচ করে দিয়েছিলেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে যদি সাক্ষাৎ হয় তবে তিনি মনে করেন এটি খুব ভালো হবে।
ক্রেমলিন এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে যে, তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
চিঠিটির সুর ছিল উদ্ধত ও বিদ্রূপাত্মক, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জেলেনস্কি এর মধ্যে মন্তব্য করেছেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পুতিনের ওপর বয়সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’
চিঠিটিতে উল্লেখযোগ্য ছিল কিয়েভের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিষয়ে পুরোপুরি মনোযোগী হয়ে উঠেছে।
জেলেনস্কি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা করাটা সঠিক হবে না।
এদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, যিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক, তবে কিছু কিছু ছাড় দিতে হবে।
পুতিন এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেহেতু ট্রাম্প ইরান নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি করাতে পারে।
কিন্তু ইউক্রেন তার ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রোধ করেছে। তাদের মতে, এটি রাশিয়াকে আবারও আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত করবে, যেমনটি তারা ২০২২ সালে করেছিল, যখন অবৈধভাবে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করেছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত থমকে গেছে, এবং জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ চিঠিতে জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন: ‘আপনাদের যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু ঘটিয়েছে তা নিয়ে রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে আমরা ইউক্রেনবাসীরা চিন্তিত নই।’
‘কিন্তু আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের লোকজনকে হারাচ্ছি, এবং প্রতিটি ক্ষতিই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।’ বলেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পেট্রোলের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে রুশরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনাদের কাছে এটাই প্রধান প্রত্যাশা।’ বলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। সুইজারল্যান্ড অথবা তুরস্কের মতো কোনো দেশে মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এই খোলা চিঠিটি যুদ্ধ শেষ করার একটি গুরুতর ও অর্থবহ প্রস্তাব।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন