প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ২৮ অক্টোবর, একটি রক্তক্ষয়ী দিন। ২০২৩ সালে বিএনপির ডাকা সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকার রাজপথে এদিন রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে নয়াপল্টনের বিশাল মহাসমাবেশকে পণ্ড করে দেয়। কাকরাইলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২ জন নিহত হন এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার পরেও তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পারেনি।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপির মহাসমাবেশটি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক পণ্ড করা হয়। টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে বিরোধী দলের বিশাল সমাবেশকে ব্যাহত করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব যথাযথভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেননি। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ওই দিনের মহাসমাবেশে যোগ দেন। নয়াপল্টনে তিন ধারণের জায়গা ছিলো না, এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন তারা।
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। কাকরাইল ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তাদের বহনকারী বাস ও পিকআপ ভাঙচুর করা হয়।
দিনভর থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। কাকরাইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙচুর ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়।
পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ফলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আইডিইবি ভবনে রাখা দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই সংঘর্ষ বিজয়নগর পানির ট্যাংক ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ চলতে থাকে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালের ফটকের ভেতরে রাখা মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুলেন্সেও আগুন দেওয়া হয়।
এ সংঘর্ষের ফলে মারা যান একজন যুবদল কর্মী এবং এক পুলিশ সদস্য। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ এবং সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরবর্তীতে ডিএমপির পক্ষ থেকে হত্যা, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়। ১ হাজার ৫০০ জনের নামসহ অজ্ঞাত কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়।
এসব মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ১ হাজার ৭২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব মামলায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট দেয়। একে একে মুক্তি পান বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন