প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা অবশেষে সমাধান হয়েছে। নতুন উপাচার্যের নির্দেশের কারণে বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন।
বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের প্রতিবাদের মুখে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জটিলতার সমাধান হয়।
জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক ফিরতি মেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের সইসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বিল পাওয়ার বিষয়টি উপাচার্যকে জানান।
এরপর উপাচার্য আরেকটি ই-মেইলে পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনুমোদন ছাড়া বেতন বিল পাঠানোর কারণে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘চুয়েটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কম্পট্রোলারের মাধ্যমে প্রতি মাসের মতো এ মাসেও বেতন বিল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্যের হস্তক্ষেপে বেতন-ভাতা আটকে যায়।’
বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বেতন ও উৎসব ভাতা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। পরে বুধবার সকালে তারা সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন।
বেতন বন্ধ রাখা বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, ‘উপাচার্যের মেইলের পরই বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। পরে তাঁদের নির্দেশে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে।’
ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হতে থাকে। এতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে আমরা চুয়েট শাখার সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে আমাদের আন্দোলনের মুখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সমাধান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ব্যাংকে টাকা ঢুকতে শুরু করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেতন-ভাতার সমস্যার সমাধান হওয়ায় আমরা ব্যাংকের সামনে থেকে সরে এসেছি। তবে আমাদের আগের দাবি, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এ দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় শাটডাউন কর্মসূচি। পরে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যান।
নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৬ দিন ধরে শাটডাউন চলছে চুয়েটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন