প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির নতুন নাম এখন নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র।
স্থানীয় ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে মিল রেখেই এই নাম পরিবর্তন আনা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
নাওয়েরোর প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক সংকেত বা কোডও বদলানো হবে। এতদিন আমাদের নাগরিকদের নাউরুয়ান বলা হলেও, এখন থেকে তাদের দেই নাওয়েরো নামে ডাকা হবে।’
বৃহস্পতিবার সরকারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এই প্রত্যন্ত দ্বীপরাষ্ট্রটি তার ঐতিহ্যবাহী নামে ফিরে আসবে।
দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামে পরিচিত হয়েছিল শুধুমাত্র এই কারণে যে, এর স্থানীয় নামটি বিদেশিদের উচ্চারণ করতে কঠিন ছিল এবং এটি পছন্দের বিষয় না হয়ে বরং সুবিধার জন্য রাখা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং। তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথভাবে সম্মান জানানো হবে।’ পরে প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে অনুমোদিত হয় প্রস্তাবটি।
নাওয়েরোতে মাত্র ১২ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এর আগে রয়েছে শুধু টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি। নাওয়েরো একসময় জার্মানির উপনিবেশ ছিল। পরে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনের অধীন। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে নাওয়েরো বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। তবে সেই শিল্প ধসে পড়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ কারণে নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপদ এলাকায় সরানোর তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেন, ‘নাম পরিবর্তন জাতীয় গৌরবের নতুন সূচনা করবে। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, গণভোটের প্রয়োজন নেই।’
এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক অতीतের পরিচয় থেকে সরে এসে ঐতিহ্যবাহী নাম গ্রহণ করা দেশগুলোর তালিকায় নাওয়েরো যুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নাম বদলে এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে তুর্কিয়ে নাম ব্যবহার শুরু করে।
নাউরুর এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের জাতীয় বিমান এবং জাহাজের নাম পরিবর্তন করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যেই অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে দেশটির নতুন নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার জুন মাসে এটি পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও চীনা দূতাবাসগুলোও তাদের ওয়েবসাইটে দেশটিকে ‘নাওয়েরো’ নামে উল্লেখ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন