প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরে যানজট ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা exacerbated হচ্ছে অপ্রশস্ত সড়ক, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে। যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া বাস দাঁড় করানোর ফলে পৌরবাসী প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগেই থাকে।
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তাগাছা পৌরসভা বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শহরের সড়ক ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুরোনো সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
যানজটের সমস্যা সমাধানে এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল সহজ করতে, ২০২১ সালের ১ জুলাই ময়মনসিংহ নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে মুক্তাগাছা শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুনবাজার থেকে ভাবকির মোড় পর্যন্ত সড়কে যানজটের মাত্রা বেশি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ছুটির পর দুপুরে এ এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। অতিরিক্ত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসের কারণে সরু সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, যা প্রতিদিন মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে।
যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয়রা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ইসলাম পরিবহনের বাস দাঁড় করানো ও অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড পরিচালনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা, যাত্রী ওঠানামা এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিইআর) ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ময়মনসিংহকে বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় নবম অবস্থানে রাখা হয়। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরের যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণ করে ওই গবেষণা করা হয়েছিল।
যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মুক্তাগাছার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুও সংসদে মুক্তাগাছার নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত বাইপাসের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে শহরের সড়কে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। নম্বর প্লেটবিহীন অবৈধ অটোরিকশাও চলছে। এর পাশাপাশি মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে রাখায় যানজট আরও বাড়ছে। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
মুক্তাগাছা ট্রাফিক জোনের ইনচার্জ মৃদুল রঞ্জন দাস দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মুক্তাগাছা পুরোনো শহর। এখানকার সড়ক অপ্রশস্ত হলেও যানবাহন বেড়েছে বহুগুণ। ফলে শহরটি এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনে সওজের সড়ক প্রশস্ত করার বিকল্প নেই। ট্রাফিক পুলিশের জনবলও পর্যাপ্ত নয়। তারপরও যানজট কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। পুরোনো সড়কগুলো প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ফুটপাতও দখল করা হয়। পৌর এলাকার ভেতরে শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চলাচল করাতে তদারকি রয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মুক্তাগাছা বাইপাসের কাজ দ্রুত শেষ করা হলে দীর্ঘদিনের যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন