প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারী ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত জুলাই মাস থেকে নীলফামারী প্রধান ডাকঘর এবং উপজেলা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোতে এই বিশেষ ডাক সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সাধারণ ডকুমেন্টস, সঞ্চয় ব্যাংক, জিইপি ও রেজিস্ট্রি সেবার পাশাপাশি নতুন এই সেবা কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
নীলফামারী প্রধান ডাকঘরের সূত্র জানায়, জুলাই’২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে ৩০৯টি পার্সেল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে।
এই সেবার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৫৩৬ টাকা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৯৭টি পার্সেল গ্রাহকদের মধ্যে ডেলিভারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারী প্রধান ডাকঘরে দ্রব্যাদি পাঠাতে আসা নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস সম্পন্নকারী ডা. সুমাইয়া সুলতানা জানান, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর মৌলভীবাজারে প্রয়োজনীয় আসবাব, বইপত্রসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি পাঠাবেন।
তিনি বলেন, "এজন্য এখানে এসেছি। আমার ১৭৩ কেজি দ্রব্যাদি পাঠাতে খরচ হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টাকা। কুরিয়ার যোগে পাঠাতে খরচ হতো ৫ হাজার টাকার মত। সেখানে আমি অত্যন্ত কম খরচে নিরাপদে পাঠাতে পারছি।"
চিকিৎসক সুমাইয়া আরও জানান, বন্ধুদের কাছ থেকে খবর নিয়ে তিনি এখানে এসেছেন এবং এই সেবা নিরাপদ মনে হয়েছে। ডাকঘরের সূত্র জানায়, স্পিড পোস্টে প্রথম কেজি ১১ টাকা এবং পরের কেজি ৫ টাকা হারে চার্জ নেয়া হয়। বিকেলে ও রাতে বুকিং হওয়া মালামাল পাবর্তীপুরে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় ডাকযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। তিতুমীর এক্সপ্রেস ও রুপসা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে এসব মালামাল পার্বতীপুরে পাঠানো হয়।
স্পিড পোস্টের সেবা নিয়ে শিক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, "এটা আমার কাছে অত্যন্ত নিরাপদ মনে হয়েছে কারণ এই সেবা সরকারী। কোন নিরাপত্তার অভাব নেই, যথাসময়ে পৌঁছে যাচ্ছে এবং খরচও কম। কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ে সুবিধা বেশি।"
নীলফামারী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মোঃ শামসুজ্জোহা জানান, তারা সপ্তাহের সাতদিনই সেবা দিয়ে থাকেন। শুক্রবারেও যদি পার্সেল আসে, সেটি তারা ডেলিভারি করে থাকেন। তিনি বলেন, "আমাদের এখানে মূল সমস্যা হলো গাড়ি না থাকা। যদি নিজস্ব গাড়ি থাকতো, তাহলে দুর্ভোগ কমে আসতো।"
তিনি আরও বলেন, "পাবর্তীপুরে গিয়ে আমাদের ডাক দিয়ে আসতে হতো না, পাশাপাশি এখান থেকে সরাসরি বিভিন্ন উপজেলায় পার্সেল ডেলিভারি করা হতো।"
ডাকঘরের সূত্র জানায়, গেল তিন মাসে ১২ হাজার ৮৭টি ডকুমেন্টস বুকিং করা হয়। এতে সরকারের আয় হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ২২ টাকা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রি চিঠি ছিলো ১১ হাজার ৬০৫টি।
প্রধান ডাকঘর কর্মকর্তা মোঃ শামসুজ্জোহা জানান, এখান থেকে দ্রুত কাঁচা জিনিস পত্র শাক সবজি পাঠানো যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন