মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৮:২৭ পি.এম
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গর্ভবতী মা এবং শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার চারটি উপজেলার মোট ২০টি ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস। এই প্রকল্পে সহযোগিতার সঙ্গে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)। প্রকল্পটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।
২১ আগস্ট, সোমবার এই উদ্যোগের প্রতি অবহিতকরণের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল, উপকারভোগী নির্বাচন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মিজ নাজমা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউপ্রু মেরি, সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনুকা খীসা।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাপছড়ি, বালুখালী ও কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন এনজিও প্রধান, হেডম্যান এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি সদর, কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলা এবং বান্দরবান সদর উপজেলা রয়েছে। এসব উপজেলার নির্ধারিত ২০টি ইউনিয়নে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পটির দুটি প্রধান স্তম্ভ হলো—মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP) এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে MCBP কার্যক্রম এবং ইউনিয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে DRR কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে দুর্গম, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এবং আর্থ-সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা এবং সুপেয় পানির সংকট এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ফেলছে।
বিশেষ করে দুর্যোগের সময় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
প্রকল্পে গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে পুষ্টির ঘাটতি শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গর্ভবতী মা এবং শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মাসিক আর্থিক সহায়তা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া প্রকল্পের DRR অংশের মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে Community Risk Assessment (CRA) বা কমিউনিটির পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি নিরূপণ করা হবে। এর ভিত্তিতে Risk Reduction Action Plan (RRAP) প্রণয়ন করা হবে।
ঝুঁকি হ্রাসে সুরক্ষা দেয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির স্থানসহ ছোট আকারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ফার্স্ট এইড কিট সরবরাহ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কৌশলগত দিকনির্দেশনা, উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, এলজিইডি ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, পাড়া কর্মী এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়াররা উপকারভোগী যাচাই, উঠান বৈঠক, দুর্যোগ ঝুঁকি নিরূপণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারক করবেন।
প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের তথ্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী Management Information System (MIS)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ই-মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল সরেজমিনে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন ও গুণগত মান যাচাই করবে।
এ ছাড়া অভিযোগ প্রতিকারের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনলাইন GRS এবং আশিকার স্থানীয় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি গ্রহণের মান উন্নত হবে এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি নিরূপণ এবং ছোট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
দীর্ঘমেয়াদে পার্বত্য অঞ্চলে শিশুদের খর্বকায় (Stunting) ও কৃশকায় (Wasting) হওয়ার হার কমানো, শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করা এবং দুর্যোগ-সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি স্বাস্থ্যবান, সক্ষম এবং দুর্যোগ-সহনশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনমুখী, বাস্তববাদী ও দক্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি আরও বলেন, এই নেতৃত্ব দেশের জটিল উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আজ (সোমবার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘কমপারেটিভ গভর্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেছেন, ‘চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।’
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। এক সঙ্গে একক শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে গিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য আরও অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চেন ঝিমিন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।
ইয়াও ওয়েন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের নতুন সরকার উন্নয়নমুখী নীতি অনুসরণ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছিলেন, ওই সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশ-চীনের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করা এবং নতুন যুগের জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, ‘সফরটি অত্যন্ত সফল ছিল এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।’
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উদ্ধৃতির মাধ্যমে ইয়াও ওয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবেই বদলাক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চীন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সমঝোতাটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘স্বর্ণালি ৫০ বছর’-এর ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
ইয়াও ওয়েন বলেছিলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার পরিধি ও মান ক্রমাগত বাড়ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ও দুই দেশের অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ফোরামের অংশগ্রহণকারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা, দারিদ্র্য বিমোচন ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
বিস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত চার দিনের ফোরামে চীনের রাষ্ট্র পরিচালনায় আধুনিকায়ন ও সুশাসন সক্ষমতার অভিজ্ঞতা, ‘ফোর গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিট বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌ বহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশে আসছেন।
অ্যাডমিরাল কোহলার ২২ সদস্যের নৌ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এ তথ্য সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তার আগমন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতির ইঙ্গিত হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের দৃঢ়তার লক্ষণ। সফরকালে, অ্যাডমিরাল কোহলারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের সামরিক ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবে।
এই আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সীমানার সুরক্ষা এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার নৌবাহিনীতে ইউএসএস কার্ল ভিনসনের এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ফাইটার স্কোয়াড্রন ১৪৩, ইউএসএস বাতান ও বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম, সাউদার্ন ওয়াচ, ইরাকি ফ্রিডম ও ইনহেরেন্ট রিজলভসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া, হাইতিতে ভয়াবহ ভূকম্পের পরে জরুরি দুর্যোগ ত্রাণ তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ অপারেশনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
স্টিফেন কোহলার ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরলে লাখো কোটি ছাত্র-জনতা সেদিন ঢাকার রাজপথে থাকবে।
তিনি সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেছেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে আসেন, তাহলে এয়ারপোর্ট থেকেই সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, ১৪০০ শহিদ পরিবার, তিন লাখ আহত এবং লাখো কোটি ছাত্র-জনতা সেদিন ঢাকার রাজপথে থাকবে। শেখ হাসিনাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরবো না।
তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেছেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে। আপনি আপনারা এটা একবার করে দেখেন। আপনাদের যদি হিম্মত থাকে, তবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখান। কার কতটুকু সাহস ও হিম্মত আছে, তা মাঠে নামলেই দেখা যাবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা নিয়ে রাজধানীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নাগরিক স্বার্থই হবে উন্নয়নের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
ডিএনসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বারনটেক, নামাপাড়া, বাইগারটেক ও সিদ্দিক নগর এলাকায় তিনটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক আজ এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদার ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতিফলন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তার দায়িত্ব। তবে এই উদারতার সুযোগ নিয়ে কেউ অন্যায় করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সম্প্রতি উত্তরখানে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসক হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। ভবিষ্যতেও দল-মত নির্বিশেষে যে কোনো নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একইভাবে পাশে থাকবো।’
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একার পক্ষে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত উন্নয়ন ও মানবতার বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কোরবানির ঈদে নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরবাসী নির্ধারিত স্থানে কোরবানির বর্জ্য ফেলেছেন এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত তা অপসারণ করায় এবার নগরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়নি। এতে নগরবাসী স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছেন।
প্রশাসক বলেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় এলাকা। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করেন। তাই সবার অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত ও উন্নত ওয়ার্ড গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে তিনি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ