প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। কুরুকপাতা বাজার এবং পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, তবে সড়ক শেষ হওয়ার পর থেকেই পাহাড়িদের জীবনে শুরু হয় চরম দুর্ভোগ।
সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের অভাবে বিশাল এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। শিক্ষার্থীদের কুপির আলোতে পড়াশোনা করতে হয়, এবং জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ার কারণে পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক দাম পান না জুমচাষিরা। এছাড়া, মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাব, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন নেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, কুরুকপাতা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১১ হাজার ২১৬। এখানে ১৪২টি পাড়ায় প্রধানত ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে।
স্থানীয় খামলাই ম্রো বলেন, "সড়ক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক এখনো পৌঁছায়নি। কিছু ঘরে সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।"
স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা মেনদন ম্রো ও পোয়ামুহুরীর অঞ্জনা ত্রিপুরা জানান, রাতে অসুস্থ হলে প্রাণ বাঁচানোর আতঙ্কে থাকতে হয়। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা সাধারণ পরীক্ষা করাতে সারাদিন চলে যায়। এমনকি জন্মনিবন্ধনের মতো নাগরিক সেবা নিতে যাতায়াতেই পরিবারগুলোকে এক হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হয়।
এদিকে ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিশুদের দূর-দূরান্তে পড়াশোনা করতে হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের অভাব শিক্ষা থেকে শুরু করে সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকার কারণে নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো না থাকায় আলীকদম সদর এলাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, এই এলাকায় উন্নয়নের প্রধান বাধা জমি ও বনাঞ্চলসংক্রান্ত জটিলতা। ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশিত হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা ও আইনি অবস্থানের কারণে কোনো স্থায়ী ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, "রিজার্ভ ফরেস্টের কারণে বন বিভাগের আপত্তিতে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (NOC) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
ইউএনও আরও জানান, এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন