প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে ঘটেছে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা, নাশকতা অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছে কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করেছে যে, বিস্ফোরণের স্থল এখন ঝুঁকিমুক্ত। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার দুপরের দিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থল এখন নিরাপদ।
পুলিশ সুপার জানান, বিস্ফোরকটি ছিল একটি হাতে তৈরি বোমা, যা পটকার বারুদ ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে তৈরি। তিনি জানান, যদি বোমাটিতে স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হতো, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তদন্তকারীদের ধারণা, যিনি বা যারা বোমাটি তৈরি করেছে, তাদের এই বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত সোমবার সন্ধ্যায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর ছয়টার দিকে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি, এবং নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে এবং পরে ঢাকা থেকে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল এসে আলামত সংগ্রহ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন