প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রথম বাজেট ঘোষণার পূর্বে সোমবার যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
জানা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তরুণদের বেকারত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ফলে বেড়ে যাওয়া জ্বালানি দামের চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী হিলি তার বক্তৃতায় পরিস্থিতির একটি সতর্ক আশাবাদী চিত্র তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা, যেখানে তিনি ‘ব্রিটেনকে নিয়ে একটি নতুন গল্প— আশাবাদ ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সরকারি দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং উত্তর ইংল্যান্ডে ব্যবসায়িক উদ্ভাবন বাড়াতে ১৫ কোটি পাউন্ডের একটি নতুন তহবিল গঠন। লন্ডনের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পরিকল্পনার সঙ্গে এসব উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হিলি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করবেন, ‘আমি এই দেশে সম্পদ সৃষ্টি দেখতে চাই। আমি চাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ করুক।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও জরুরি।
বাড়তি ব্যয়ের সুযোগ সীমিত
সপ্তাহান্তে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে হিলি জানান, আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট ব্যবহার করে তিনি অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি ‘সুরক্ষা ব্যবস্থা’ তৈরি করতে চান।
এর আগে তিনি তার পূর্বসূরি র্যাচেল রিভসের নির্ধারণ করে যাওয়া আর্থিক নীতিমালা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে সরকারি রাজস্ব দিয়ে সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো।
তবে বাজেটে সম্ভাব্য কর বাড়ানো বা পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে হিলি এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি।
জুলাইয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু কম খরচের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাসভাড়া কমানো ও বিদ্যুৎ বিলের ওপর কর কমানো।
তবে সরকারি বন্ডের সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং সরকারের বিপুল ঋণের কারণে বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বার্নহামের জন্য বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা কঠিন হবে। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিষেবার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, গৃহহীনতার সমস্যা দূর করা এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের অর্থের ঘাটতি পূরণ করা।
হিলি এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
এখন তার ওপর ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার চাপ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন