প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে এবং যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফেরার তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাহস নেই তার কবর বাংলাদেশে দেওয়ার।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তারা ছিল ভারতের আওয়ামী লীগের একটি এক্সটেনশন। সেই এক্সটেনশনের অধিকাংশ সদস্য পালিয়ে গেছে। কিছু দোসর এখনো হম্বিতম্বি করছে। তাদের মোকাবিলায় ছাত্রদলই যথেষ্ট, অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন হবে না।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিদেশি চাপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি আমেরিকা কিংবা ভারতের কাছে মাথানত করে দেশ পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত বাংলাদেশকে কোনো চাপ দিচ্ছে- এমন কিছু তার জানা নেই।
ভারতীয় হাইকমিশনারকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ হাসিনা একজন দখলদার ছিলেন। তাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অন্যায় করেছে। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা, যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ খুবই কম।
তিনি আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একাত্তরে পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করে দেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছিল। একইভাবে শেখ হাসিনা পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
জামায়াতের আমিরের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, সরকার পতনের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করে জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জুলাইকে বিক্রি করে সংসদের আসন ভাগাভাগি করা হয়েছে। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে এনসিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৮ মাস ধরে তারা সারা দেশে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, আরও কিছুদিন সুযোগ পেলে তারা আওয়ামী লীগকেও হার মানাত। বর্তমানে এই গোষ্ঠী আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে।
পরে রাশেদ খাঁন শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন