প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছিলেন নিহত অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা, যারা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
২০২২ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি। বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতম, যিনি সম্প্রতি সিকিমের রাজ্যপাল হয়েছেন, তাকে অঙ্কিতাকে নির্যাতন ও হত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ, বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন অঙ্কিতার বাবা-মা।
আটকের সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া, দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতে, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। যদিও প্রায় দুই ঘণ্টা পর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অঙ্কিতার বাবা-মা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অঙ্কিতার মা জানিয়েছেন, যদি অবস্থান ধর্মঘট করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা বাড়িতেই অনশন শুরু করবেন।
এদিকে, সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে কংগ্রেস তাদের আটক হওয়ার সমালোচনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ভিআইপি দুষ্মন্ত গৌতমকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদি সব সীমা অতিক্রম করলেন। ভোর ৪ টায় পুলিশ পাঠিয়ে অঙ্কিতার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হল। প্রথমে দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করা হল। আর এখন মেয়ের জন্য বিচার চাওয়া বাবা-মায়ের কণ্ঠরোধ করা হল। লজ্জাজনক।’
চার বছর আগে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডে খুন হন অঙ্কিতা। ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা হৃষীকেশের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ছয়দিন পর একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওই রিসোর্টে অঙ্কিতাকে ‘যৌন কাজে’ বাধ্য করা হত। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজি না-হওয়ায় তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃষীকেশের ওই রিসোর্টের ম্যানেজার ছিলেন সাবেক বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য, যিনি অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন।
অঙ্কিতার পরিবার অভিযোগ করেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তফসিলি জাতি মোর্চার সাবেক প্রেসিডেন্ট দুষ্মন্ত গৌতমের যোগসূত্র রয়েছে। তাদের দাবি, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র কথা উঠে এসেছে, অর্থাৎ যার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি এই দুষ্মন্ত। সম্প্রতি সেই দুষ্মন্তই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়েছেন। অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্মন্তের নিয়োগকে স্থগিত রাখা হোক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিপূরণ না হলে পুরো দেশে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা।
দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থানে বসা অঙ্কিতার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারা ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদে যোগ দেন।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন