প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে তাদের কাছে একটি ল্যাপটপ, সাতটি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড ও নয়টি বাংলাদেশি ভুয়া পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারদের নাম হলো মারিফুল ইসলাম (২১) এবং বাচ্চা বাউ, যিনি হাসিনুর নামে পরিচিত (২৮)।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর পল্লবী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত চলছে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. ওয়ালিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
এরপর তারা বিদেশে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মেডিক্যাল ফি, ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, টিকিটসহ নানা খাতের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ গ্রহণ করতেন।
তিনি আরও জানান, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তারা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া এলএমআইএ (লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) ও ভিসা ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতেন। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর দিলেই ভিসা অনুমোদনের ভুয়া বার্তা দেখানো হতো, যা অনেক ভুক্তভোগীকে প্রতারণার শিকার করতে সাহায্য করেছে।
মামলার বাদী অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির আশায় অভিযুক্তদের বিশ্বাস করে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল, ভিসা প্রসেসিং ও ডকুমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরে যখন আরো অর্থ দাবি করা হয় এবং বিদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না করা হয়, তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, চক্রটি অন্তত ৭২ জনের বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে ভুক্তভোগীদের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত এবং ভুয়া ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি পাওয়া গেছে।
ডিবি জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে আরো কয়েকজন সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিদেশে চাকরি申请 করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। তারা বলেছেন, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে অর্থ লেনদেন করবেন না। ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা অন্যান্য কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা দূতাবাসের মাধ্যমে যাচাই করুন। যদি কেউ প্রতারণার শিকার হন বা এ ধরনের তথ্য জানেন তবে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন