প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট বন্যপ্রাণীপ্রেমী সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ৯টা ৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৮১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন সড়কের নিজ বাসায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে তাঁর বাসায় ভিড় করেন। পরে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসা হলে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর শেষকৃত্যের জন্য তাঁর মরদেহ নয়াগাঁও গ্রামের পারিবারিক শ্মশানঘাটে নেওয়া হয়।
সীতেশ রঞ্জন দেব চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা, পরিচর্যা, পুনর্বাসন এবং সুস্থ হওয়ার পর তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁর অসামান্য অবদান, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে পরিবেশবাদীরা মনে করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁর কর্মনিষ্ঠা এবং অবদান দেশের পরিবেশ আন্দোলনে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ দেশের পরিবেশবাদী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, তাঁর মৃত্যুতে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন