প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত-পাকিস্তান আবারও বাগযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের মঞ্চে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু পানি চুক্তি, এসব তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই ইসলামাবাদকে সরাসরি নিশানা করেছে নয়াদিল্লি।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬২তম অধিবেশনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বক্তব্য তুলে ধরেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কাশ্মীরের প্রসঙ্গে দাবি করেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, এ নিয়ে পাকিস্তানের উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
অনুপমা সিং বলেন, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন যে, ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো এই চুক্তিকে বর্তমান রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিচ্ছিন্ন করে দেখা সম্ভব নয়।
বক্তব্যের অংশ হিসেবে তিনি রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দমন, নাগরিকদের হতাহত এবং মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ আনেন এবং দাবি করেন যে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ চলছে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, আজাদ কাশ্মীরকে অস্থিতিশীল করার ভারতের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, কাশ্মীরের কিছু গোষ্ঠী ভারতের নির্দেশনায় কাজ করছে এবং আজাদ কাশ্মীরের মানুষের দীর্ঘকালীন ত্যাগ ও সংগ্রামকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পেছনে ভারত ও আফগানিস্তানের মদদ রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি কোনো ধরনের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের শক্তিশালী জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, বারাণসীর একটি মসজিদকে ঘিরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মন্তব্যও ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই। ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশন সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ওই স্থাপনার জন্য উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে এবং ২০ জুনের মধ্যে স্থান খালি করার নির্দেশ দেয়।
এই পদক্ষেপের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন