প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহক একটি মাধ্যম থেকে ব্যাংকিং সেবা শুরু করে অন্য মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে পারবেন।
ফলে, কাজের মাঝে বিরতি পড়লেও পুনরায় শুরু করার জন্য তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। গতকাল রবিবার, রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ব্যাংকটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সেবা চালু করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংক দাবি করেছে, দেশে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংক এ ধরনের সমন্বিত ওমনিচ্যানেল সেবা চালু করেছে।
নতুন এই ব্যবস্থায় ব্যাংকের শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, কল সেন্টার, মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব সাইট একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর ফলে, গ্রাহক ঘরে বসে ওয়েব সাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব খোলা, ঋণ অথবা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন শুরু করতে পারবেন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী শাখা, কল সেন্টার বা অন্য কোনো মাধ্যমে সেই কাজ শেষ করা যাবে। আবেদন করার সময় যদি কোনো কারণে কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তবে সেখান থেকেই আবার শুরু করা যাবে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের সুবিধামতো সেবা নেওয়ার মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন। এতে একই কাজের জন্য বারবার শাখায় যাওয়া বা নতুন করে তথ্য দেওয়ার ঝামেলা কমবে। পাশাপাশি গ্রাহকের প্রয়োজন, পছন্দ ও লেনদেনের ধরন বিবেচনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবাও প্রদান করা সম্ভব হবে। ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে ২৪ ঘণ্টা।
ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান বলেন, নতুন সেবা চালুর ফলে একজন গ্রাহককে সেবার জন্য বারবার ব্যাংকে আসার প্রয়োজন হবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন ও কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে না। একবার যোগাযোগ করলেই উপযুক্ত হলে ব্যাংক সেবার দিকে চলে যাবে। এ জন্য ব্যাংকের সব বিভাগকে প্রস্তুত করা হয়েছে। মেহেরিয়ার এম হাসান আরও বলেন, ‘দেশের ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে আছেন। তাঁদের বাইরে রেখে অর্থনীতির উন্নয়ন করা যাবে না। আমাদের এই সেবার অন্যতম লক্ষ্য তাঁদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা।’
মেহেরিয়ার এম হাসান আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ১০ জন গ্রাহক ব্যাংকে এলে দুজন সেবা নিতে পারেন। বিভিন্ন কারণে আটজনই সেবা না নিয়ে ফিরে যান। নতুন সেবায় সব গ্রাহকের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে সেবা দেওয়া হবে।’
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা শুধু আর্থিকভাবে লাভবান নই, সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি। প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত করতে ভূমিকা রেখেছি। এই উদ্যোগ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যেখানে ব্যাংকটি সাধারণ ট্রানজেকশনভিত্তিক ব্যাংকিং থেকে বেরিয়ে সম্পর্কের ভিত্তির ব্যাংকিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিকস ও ব্যাংক প্রতিনিধির সহায়তার সমন্বয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন আরো ভালোভাবে বোঝা এবং সে অনুযায়ী সেবা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সব চ্যানেলে গ্রাহক তথ্য ও সেবার প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যাংকিংকে আরো বেশি গ্রাহককেন্দ্রিক, সহজলভ্য এবং ব্যক্তি চাহিদা উপযোগী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন