প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) কর্মরত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার নার্সিং ব্যাচ-২ (২০১৮)-এর নার্সিং কর্মকর্তারা রোগীদের সেবায় আট বছরের পথচলা সম্পন্ন করেছেন। এই বিশেষ উপলক্ষে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ১০টি নতুন হুইলচেয়ার হস্তান্তর এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় (প্রশাসনিক ব্লক) সংলগ্ন তৃতীয় তলার কনফারেন্স হলে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
২০১৮ সালে সরকারি পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তারা দীর্ঘ আট বছর ধরে রোগীদের সেবা, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অবদান রেখে আসছেন। তাদের এই দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখতে সহকর্মীদের উদ্যোগে বর্ষপূর্তি উদযাপনের আয়োজন করা হয়।
বর্ষপূর্তির আয়োজনকে আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন নার্সিং কর্মকর্তারা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে আগত রোগীদের ব্যবহারের জন্য ১০টি নতুন হুইলচেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন, উপপরিচালক মো. আশরাফুল আলম এবং ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা বারুই উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষে সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ফারুক হোসাইন বলেন, "নার্সিং পেশার মর্যাদা, মানবিক সেবার গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় নার্সিং কর্মকর্তাদের নিরলস অবদান সবার সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।" তিনি আরও বলেন, রোগীদের সেবায় হুইলচেয়ার প্রদান এবং বৃক্ষরোপণের মতো মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের বর্ষপূর্তি উদযাপন আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, "সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব কেবল রোগীদের শারীরিক চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালো সেবা, মিষ্টি কথা, সুন্দর আচরণ এবং আন্তরিক হাসির মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হয়।" তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে একটি অনন্য দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন, যা সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার একটি অমূল্য মানবিক গুণ, যার কোনো বিকল্প নেই। গুটিকয়েক মানুষের খারাপ আচরণের কারণে অনেক সময় পুরো পেশার দুর্নাম হয়। তাই শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, বাসা, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখা উচিত।"
ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা বারুই বলেন, "রোগীই তাদের কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তারা যতই আনন্দ বা ব্যস্ততার মধ্যে থাকুন না কেন, রোগী ছাড়া তাদের কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই।" তিনি নার্সিং কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে রোগীর সেবা করার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, তারা কখনো এই দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাবেন না।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নার্সিং নেতৃবৃন্দ এবং ২০১৮ ব্যাচের বিপুলসংখ্যক নার্সিং কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নার্সদের অগ্রণী ভূমিকা ও ত্যাগের প্রশংসা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন